ডিএ জট কাটাতে বড় পদক্ষেপ! নবান্নে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে জট কাটানোর আশায় বুক বাঁধছেন কর্মীরা। দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যার সুরাহা করতে এবার সরাসরি উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ মে নবান্নে ‘সং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কর্মীদের দীর্ঘদিনের লড়াই:
২০২০ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পেলেও, রাজ্যের কর্মীদের প্রাপ্তি ছিল তার তুলনায় অনেক কম। বিগত সরকারের আমলে এই বকেয়া ডিএ-র দাবি নিয়ে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কর্মীদের অভিযোগ, বারবার কোর্টের নির্দেশকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের নতুন সরকারের কাছ থেকে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী।
মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা:
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া সমস্যা মিটিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বকেয়া মেটাতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন থাকলেও, এই জটিলতা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পারিষদরা জোরকদমে কাজ শুরু করেছেন। সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি এই ধরণের বৈঠক অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি, যা কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
কী আশা করছেন কর্মীরা?
৩০ মে-র এই নবান্ন বৈঠক থেকেই বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনো ইতিবাচক ঘোষণা বা বিস্তারিত আলোচনার দিশা মিলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, এই বছরের পুজোর আগেই বকেয়া ভাতার টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না।
সব মিলিয়ে, ৩০ মে-র এই বৈঠকটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এখন দেখার, নতুন সরকারের উদ্যোগে সত্যিই ডিএ-র দীর্ঘদিনের এই জট কাটে কি না।