ফলতায় একপেশে লড়াই! গণনার শুরুতেই রেকর্ড ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকট

ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর ফলাফল। একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফলতায় আজ ছবিটা একেবারেই উল্টো। প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যা শাসক শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি:
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ১২,৫৬৩ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। গণনাকেন্দ্রে বিজেপি ও সিপিআইএমের কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকলেও, চোখে পড়ার মতো অনুপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের কোনও কাউন্টিং এজেন্টকে আজ ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়নি।
মাঠ ছেড়ে দিলেন ‘পুষ্পা’:
গত ২১ মে অনুষ্ঠিত এই পুনর্নির্বাচনে রেকর্ড ৮৭.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে ভোটের দু’দিন আগেই নাটকের সূত্রপাত হয়। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (যিনি এলাকায় ‘পুষ্পা’ হিসেবে পরিচিত) হঠাৎই ঘোষণা করেন যে, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত উন্নয়ন প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। যার ফলে ভোটগ্রহণের দিন তাঁর বাড়ির দরজায় ছিল তালা এবং দলীয় কার্যালয়ও ছিল বন্ধ।
বিজয়ের দোরগোড়ায় পদ্মশিবির:
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা নিজের জয় সম্পর্কে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। গণনাকেন্দ্রের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিপুল ভোটে তাঁর জয় নিশ্চিত। তবে কর্মী-সমর্থকদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আজ কোনও বিজয় মিছিল করা যাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতায় তৃণমূলের এই শোচনীয় পরাজয় এবং প্রার্থী ও এজেন্টদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই এলাকায় সাংগঠনিকভাবে ঘাসফুল শিবির কতটা ব্যাকফুটে। রাজ্যের বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৮-এ পৌঁছানো এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ফল ঘোষণার পর ব্যবধান কতটা হয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।