‘জনতার দরবারে’ বঞ্চিতদের ডাক, দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে কি মিলবে নিয়োগের সমাধান?

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের লড়াই, পুলিশের লাঠি আর বঞ্চনার যন্ত্রণার পর অবশেষে কাটতে চলেছে নিয়োগ জট। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বাংলার চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলনের পথে লড়াই করা ‘পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদের আগামী সোমবার সল্টলেকে আয়োজিত ‘জনতার দরবারে’ সরাসরি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ লড়াই: বিগত সরকারের আমলে এই চাকরিপ্রার্থীরা বহুবার আলোচনার আবেদন জানালেও তা উপেক্ষিত হয়েছিল। উল্টে নবান্ন অভিযান, ধর্মতলায় দীর্ঘদিনের অনশন বা মাতঙ্গিনী হাজরার পাদদেশে অবস্থান করার সময় তাঁদের কপালে জুটেছে পুলিশের ধরপাকড়, জলকামান ও মিথ্যে মামলা। বিশেষ করে গ্রুপ ডি ওয়েটিং মঞ্চের টানা ১৩৫০ দিনের অবস্থান বাংলার আন্দোলনের ইতিহাসে এক বিরল ও যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। গত ২০ মে নবান্নে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ডাককে ‘ইতিহাসের মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কাদের ডাক দেওয়া হয়েছে? প্রাথমিকভাবে ঐক্য মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত ৫টি বড় সংগঠনকে এই সাক্ষাতের জন্য ডাকা হয়েছে:

  • রাজ্য গ্রুপ ডি ওয়েটিং প্রার্থী মঞ্চ।

  • ২০০৯ বঞ্চিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থী মঞ্চ।

  • NSQF শিক্ষক পরিবার।

  • ২০১৪ নট ইনক্লুডেড প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ মঞ্চ।

  • মাদ্রাসা সার্ভিস পাশ কমিশন মঞ্চ।

প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে: আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ৫টি সংগঠনের বাইরেও ঐক্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত স্তরের বঞ্চিতদের সমস্যা সোমবারের বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। প্রতিনিধিদের মূল লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘদিনের এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান এবং নবান্নে সকল বঞ্চিত সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দাবি জানানো।

দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সোমবারের এই বৈঠক কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের হাজার হাজার বঞ্চিত মানুষ।