শ্রেয়স-ঝড়ে প্লে-অফের স্বপ্ন বাঁচাল পঞ্জাব! খাদের কিনারায় কলকাতা নাইট রাইডার্স

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পঞ্জাব কিংসের। টানা হারের বৃত্ত ভেঙে শনিবার লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটাল প্রীতি জিন্টার দল। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ১৯৭ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করে ১২ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় তুলে নিল পঞ্জাব। এই জয়ের ফলে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইল তারা, আর কঠিন চাপের মুখে পড়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

শ্রেয়সের বীরত্বগাথা:
এদিন পঞ্জাবের জয়ের নায়ক স্বয়ং দলনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি এল ঠিক যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। ৫১ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে তিনি মাঠ ছাড়েন, যা সাজানো ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কায়। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন প্রভসিমরন সিং (৩৯ বলে ৬৯)। ১৮তম ওভারের শেষ বলে শ্রেয়সের গগনচুম্বী ছক্কা মাঠের গ্যালারিকে উৎসবে মাতানোর পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করে।

লখনউয়ের চ্যালেঞ্জ:
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে। ওপেনার জোশ ইংলিস (৪৪ বলে ৭২) দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন। শেষদিকে আয়ুষ বাদোনি (১৮ বলে ৪৩) ও আব্দুল সামাদের (২০ বলে অপরাজিত ৩৭) ঝোড়ো ব্যাটিং লখনউকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায়। পঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে মার্কো জানসেন ও যুজবেন্দ্র চাহাল ২টি করে উইকেট নেন। এদিন লখনউয়ের জার্সিতে অভিষেক হওয়া অর্জুন তেন্ডুলকর ১টি উইকেট পেলেও দলের হার আটকাতে পারেননি।

প্লে-অফের সমীকরণ:
এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করল পঞ্জাব। এখন প্লে-অফের অঙ্ক অনেকটা নির্ভর করছে রবিবার রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচের ওপর। রয়্যালস যদি তাদের ম্যাচে হেরে যায় এবং রানরেটের বিচারে পঞ্জাব এগিয়ে থাকে, তবেই শেষ চারের পথ প্রশস্ত হবে। অন্যদিকে, ১৪ পয়েন্টে আটকে থাকা নাইট রাইডার্স ও পঞ্জাব কিংসের ভাগ্য এখন কার্যত অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর ঝুলছে। রয়্যালস তাদের ম্যাচে জিতলে পঞ্জাব ও কলকাতা উভয় দলেরই প্লে-অফের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

সারা মরশুমের ব্যর্থতার পর টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে পঞ্জাব কিংসের এই লড়াকু মানসিকতা এখন আইপিএল উত্তেজনার কেন্দ্রে।