বিজেপি সরকার আসতেই শিলিগুড়িতে ভিড়! শঙ্করের ‘দরবার’-এ মানুষের লম্বা লাইন

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর শিলিগুড়িতে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। আগে বিধায়ক হিসেবে শঙ্কর ঘোষ সাধারণ মানুষের কাছে উপলব্ধ থাকলেও, এবার বিজেপি সরকার গঠনের পর তাঁর কাছে অভাব-অভিযোগের পাহাড় নিয়ে হাজির হলেন মানুষ। রবিবার সকাল ৮টা থেকে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে বিধায়কের ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে দেখা গেল সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
দরবারে ভিড় এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:
সকাল ৮টা থেকে একটানা দু’ঘণ্টা চলে বিধায়কের এই জনদরবার। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তো বটেই, এদিন অভিযোগ জানাতে আসেন পুলিশ কর্মীরাও। রেল পুলিশের এক এএসআই কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন, বিজেপির কর্মী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তাঁর থেকে জমি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, কিন্তু জমি মেলেনি।
এছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা, ফ্ল্যাট প্রতারণার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে এই দরবারে। ইএম বাইপাসে ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও গত সরকারের আমলে রাজনৈতিক অত্যাচারে বিতাড়িত এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “লোনের কিস্তি মিটে গেলেও তৃণমূল জমানায় ফ্ল্যাটে ফিরতে পারিনি।”
মানুষের ভরসা ও বিধায়কের প্রতিক্রিয়া:
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল পরিবর্তনের সুর। এক ভুক্তভোগী বলেন, “এতদিন মানুষের স্বপ্নকে চেপে রাখা হয়েছিল, কাউকে কথা বলতে দেওয়া হতো না। এবার মানুষ ভরসা পেয়েছে। শঙ্করদার কাছে অনুরোধ, এই ভরসা যেন অটুট থাকে।”
সবার অভিযোগ মন দিয়ে শুনে নোট করেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বিধায়ক বলেন, “এটা জনগণের সরকার। জমি থেকে নিয়োগ—সব ধরনের সমস্যা নিয়েই মানুষ এসেছেন। আমি সব নথিবদ্ধ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাব। গত ১৫ বছরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দলের ঊর্ধ্বে উঠে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে সরকার প্রতিটি অভিযোগের সুরাহা করবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কের এই কর্মসূচি শিলিগুড়িতে বিজেপির জনভিত্তি আরও মজবুত করার এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।