‘নিজেকে যিশু ভাবতো…’-হোয়াইট হাউসে হামলাকারী যুবকের পরিচয় সামনে আনলো পুলিশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয়ে ভয়াবহ বন্দুকহামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসের কাছে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করেন এক যুবক। পাল্টা জবাব দেয় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। দুপক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে ওই আততায়ী। হামলার সময় হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কে এই হামলাকারী? মার্কিন পুলিশ ও এফবিআইয়ের তদন্তে হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত যুবকের নাম নাসিরে বেস্ট (২১)। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসিরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে নিয়মিত ঘোরাঘুরি করার অভ্যাস ছিল তার। এর আগেও একাধিকবার ওই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টায় সে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। জেরার সময় সে নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্টের আধুনিক অবতার’ বলে দাবি করত। তদন্তকারীদের ধারণা, এই বিভ্রান্তিকর মানসিকতাই তাকে চরম পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছে।
কী ঘটেছিল শনিবার সন্ধ্যায়? স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ হোয়াইট হাউসের সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্টের কাছে পৌঁছায় নাসিরে। আচমকাই ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আধিকারিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে সিক্রেট সার্ভিস। তাদের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে ওই যুবক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই গোলাগুলির ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সেই গুলি আততায়ীর নাকি পুলিশের, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো মেলেনি।
তদন্তের মোড়: হামলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। এটি কি নিছক কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত যুবকের হামলা, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছেন এফবিআই কর্মকর্তারা। আততায়ী ওই যুবকের হাতে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছাল, তা নিয়েও চলছে জোর তদন্ত।