ভোটের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা তৃণমূলের! এবার ছাড়তে হচ্ছে পার্টি অফিস?

২০২৬ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে ৪ মে-র পরবর্তী ঘটনাক্রম রাজ্যের শাসক দলের জন্য যেন এক বড় ঝড়ের পূর্বাভাস নিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে দলের অন্দরে নেতাদের বিদ্রোহের গুঞ্জনের পাশাপাশি নতুন এক সংকট তৈরি হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের জন্য। সূত্রের খবর, কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত বিল্ডিংটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক।
কেন এই নির্দেশ? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের পর সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিক। লিজ চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার অজুহাতে তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই বিল্ডিং খালি করে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রের দাবি, দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরেই বাড়ির মালিক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তোপসিয়ায় ২০২২ সালে তৃণমূলের স্থায়ী দলীয় কার্যালয় তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই বিল্ডিংটিকে অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছিল শাসক দল। এখন হঠাৎ এই নির্দেশ আসায় নতুন করে অফিস খোঁজা বা তোপসিয়ার কাজ ত্বরান্বিত করা নিয়ে চাপে পড়েছে দল।
কী বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব? এই বিষয়ে তৃণমূল মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, তোপসিয়ায় দলীয় কার্যালয় পুনর্নির্মাণের কাজ চলছিল বলেই এই বিল্ডিংটি সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কুণাল ঘোষের কথায়, “আমাদের আসল সদর দফতরটি প্রায় তৈরির পথে। বিল্ডিং খালি করার বিষয়টি পুরোপুরি মালিক ও দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এ নিয়ে দলের সঙ্গে বাড়ির মালিকের আলোচনা চলছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের ভোটের ফল এবং দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা শাসক দলের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, তোপসিয়ার মূল অফিস চালু হওয়ার আগেই দল এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে কি না।