‘রং দেখে থিয়েটার দেখি না’! কৌশিক সেন থেকে চন্দন সেন, শিল্প নিয়ে অকপট শমীক ভট্টাচার্য

রাজনীতি ও সংস্কৃতির সম্পর্ক চিরকালই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে সম্প্রতি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের থিয়েটার প্রেম এবং সেই নিয়ে প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেনের প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদের অভিনীত নাটক দেখতে গিয়ে শমীক বুঝিয়ে দিলেন, শিল্পের মঞ্চে ‘রং’ বিচার তাঁর কাছে গৌণ।
যা বললেন শমীক ভট্টাচার্য
সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি একজন আপাদমস্তক থিয়েটারপ্রেমী। তাঁর কথায়, “আমি কোনোদিন রং দেখে থিয়েটার দেখতে যাইনি। যারা অভিনয় করেন, তাদের শিল্পটাই আমার কাছে মুখ্য। যেমন আমার দলের সবচেয়ে বড় সমালোচক কৌশিক সেন, তিনিই তাঁর প্রথম থিয়েটারে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এমনকি বামপন্থী প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেনও আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন।”
শমীক আরও যোগ করেন, “থিয়েটারের জগতে যারা কাজ করেন, তাদের অধিকাংশেরই মতাদর্শ বিজেপি-বিরোধী। কিন্তু প্রত্যেকের কাজের নিজস্ব পরিসর থাকা উচিত। আমি চাই ছোট ছোট পরিচালক, যারা কষ্ট করে সিনেমা বা নাটক তৈরির স্বপ্ন দেখেন, তারা যেন কোনো রাজনৈতিক দখলদারি বা মানসিক চাপ ছাড়াই কাজ করতে পারেন। তাদের সেই মুক্ত পরিসর দেওয়াই লক্ষ্য।”
চন্দন সেনের প্রতিক্রিয়া
শমীক ভট্টাচার্যের এই উদার মানসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবীণ নাট্যকার চন্দন সেন। তিনি বলেন, “শমীককে আমি দীর্ঘদিনের থিয়েটারপ্রেমী হিসেবেই চিনি। তার এই মন্তব্যে দোষের কিছু নেই। দু’জন দু’জনের রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থেকেও শিল্পকে সম্মান জানানোই সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষণ।”
তবে সেই সঙ্গে চন্দন সেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বামপন্থাকে আঁকড়েই বেঁচে থাকব। শমীক ভালোমতো তাঁর দল চালাক বা সরকার চালাক, তাতে আপত্তি নেই। তবে আমি চাই, এই সরকার যদি সত্যিই থিয়েটারের মঞ্চের দিকে মন দেয় এবং নাটককে দলীয় বৃত্তের বাইরে বের করে আনতে পারে, তবে তা শিল্পের জন্য কল্যাণকর হবে।”
রাজনীতি বনাম শিল্প
অতীতে সংস্কৃতি অঙ্গনে রাজনৈতিক ‘দখলদারি’ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্টতই একটি বিভাজনহীন সাংস্কৃতিক পরিসরের কথা বলছেন। একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণ প্রকট, তখন শমীক ও চন্দন সেনের এই কথোপকথন শিল্পানুরাগীদের কাছে এক নতুন আশার বার্তা কি না, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা।
এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক বৈরিতা সত্ত্বেও শিল্পের মঞ্চে এই ‘অসহিষ্ণুতা মুক্ত’ পরিবেশ বজায় থাকে কি না।