বিপাক বাড়তেই পাল্টা আইনি মোচড়! বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার এফআইআর রুখতে জজসাহেবের এজলাসে ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যেন কিছুতেই কমছে না। বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআর (FIR) থেকে বাঁচতে এবার আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ। শুধুমাত্র আইনি রক্ষাকবচ বা গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চাওয়াই নয়, এবার ওই সুনির্দিষ্ট এফআইআর-টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে খারিজ (Quashing) করার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার রাতে এবিপি আনন্দের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হাইভোল্টেজ আইনি পদক্ষেপের খবরটি সামনে আসে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে হিংসায় উস্কানি দেওয়া, হুমকি এবং আপত্তিকর সমাজমাধ্যম পোস্টের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। বাগুইআটির সমাজকর্মী রাজীব সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর পুলিশ এই এফআইআর নথিভুক্ত করে।

কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর তৈরি হওয়া এই আইনি জটিলতাকে একবিন্দুও জমি ছাড়তে নারাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিগ্যাল টিম। হাইকোর্টে দায়ের করা নতুন আবেদনে অভিষেকের আইনজীবীদের মূল যুক্তি হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এবং সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলক মনোভাব নিয়ে এই এফআইআর করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের স্বাভাবিক বক্তব্যকে বিকৃত করে হিংসায় উস্কানির রঙ দেওয়া হচ্ছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাই এই এফআইআরটি গোড়াতেই খারিজ করে দেওয়া হোক।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যে আইনি চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, অভিষেকের এই জোড়া আইনি আবেদন (প্রথমে রক্ষাকবচ এবং পরে এফআইআর খারিজের মামলা) তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। একদিকে বিজেপি যেখানে সাফ জানাচ্ছে যে “আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না”, ঠিক তখনই এফআইআর খারিজের আবেদন ঠুকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে আইনি পথেই তিনি এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়বেন। এখন দেখার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এই হাইপ্রোফাইল মামলার স্ক্রুটিনি শেষে এফআইআর বাতিলের আর্জি মঞ্জুর করেন নাকি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন।