পকেটে ঢুকবে উপচে পড়া বোনাস ও বকেয়া! রাজ্য সরকারি কর্মীদের ‘সপ্তম পে কমিশন’ নিয়ে কাঁপানো আপডেট

নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারী মহলে বইছে তুমুল আনন্দের হাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং নতুন বেতন কমিশন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পর, এবার আক্ষরিক অর্থেই যেন লটারি লাগতে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। নবান্ন এবং অর্থ দফতর সূত্রে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও খুশির খবর সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ (7th Pay Commission) চালু হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের প্রতি মাসের মূল বেতন এক ধাক্কায় কম করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে!

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিকাঠামো পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় হারে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছিল। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কর্মচারীদের পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোয় ঠিক কতটা বড়সড় বদল আসতে চলেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে কৌতুহল ও জল্পনা বাড়ছিল। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়তে চলেছে।

অর্থ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক সূত্রে খবর, নতুন বেতন কাঠামোর যে খসড়া বা ‘পে-ম্যাট্রিক্স’ তৈরি করা হচ্ছে, তাতে নিচু তলার কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিক—সকলেরই মূল বেতন বা বেসিক পে এক নজিরবিহীন হারে বাড়তে চলেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির অঙ্কটাই দাঁড়াবে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কাছাকাছি। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংশোধিত বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance), যার ফলে মাসের শেষে অ্যাকাউন্টে ঢোকা বেতনের মোট পরিমাণ (Gross Salary) এক লাফেই অনেকটাই বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ স্থায়ী সরকারি কর্মী, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। শুধু কর্মরত কর্মীরাই নন, এই নতুন পে-কমিশনের হাত ধরে পেনশনার বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশনও এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বেতনের যে মস্ত বড় ফারাক তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকারের এই মেগা মাস্টারস্ট্রোকে সেই খামতি অনেকটাই মিটে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে কবে থেকে এই বর্ধিত বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে এবং বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খুব শীঘ্রই নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের এই সম্ভাব্য উপহারের খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া আলিপুদ্দিন থেকে নবান্ন—রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে।