কালবৈশাখী ও বৃষ্টির তোলপাড়ের মাঝেই ধেয়ে আসছে বর্ষা! আবহাওয়ার চরম খবরের মাঝেই ট্রিপল সেঞ্চুরি গরমের

একদিকে যখন বৈশাখের শেষলগ্নে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশের একাংশ, ঠিক তখনই আবহাওয়ার মেজাজে এক বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দফতর। আগামীকাল, শুক্রবার (১৫ই মে) দেশের রাজধানী দিল্লির আবহাওয়ায় দেখা যাবে এক চরম নাটকীয় মোড়। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দিল্লির আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং সেই সাথে ধেয়ে আসতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি। এই সময়ে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। শুক্রবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই স্বস্তি কিন্তু খুবই ক্ষণস্থায়ী। কারণ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা একটি বড় সতর্কতা জারি করে জানিয়েছেন, আগামী ১৬ই মে থেকে পারদ আবারও চড়চড় করে বাড়বে। আগামী পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র গরমের নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে।
১৬ই মে থাবা বসাচ্ছে মৌসুমী বায়ু!
আবহাওয়ার এই ডামাডোলের মাঝেই দেশবাসীর জন্য রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষার প্রবেশের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ অনুকূল হয়ে উঠছে। আগামী ১৬ই মে নাগাদ বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশ এবং আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমী বায়ু কড়া নাড়তে পারে।
তবে বর্ষার এই আগমনের খবরের সমান্তরালেই মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের (Heatwave) দাপট অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, সকাল কিংবা রাত—কোনো সময়ই মানুষ গরম থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। আর দুপুরের দিকে গনগনে রোদের কারণে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’
মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু বড় শহরে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ইন্দোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রয়েছে। ভোপাল, উজ্জয়িন, জবলপুর এবং রতলামের মতো শহরগুলোতেও রাতের গরমে টেকা দায় হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জেরে শুক্রবার ইন্দোর, উজ্জয়িন, রতলাম, ধর, দেওয়াস এবং গুনার জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ (Orange Alert) জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
অন্যদিকে, রাজস্থানের ফালোদিতে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝে কিছু এলাকায় হালকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলেও এই তীব্র গরম থেকে বিন্দুমাত্র রেহাই মেলেনি।
পাহাড়ি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব
উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাহাড়ি এবং সমতলের রাজ্যগুলোতে আবহাওয়া দফতর ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ১৫ ও ১৬ই মে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশে বজ্রঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও প্রকৃতির তাণ্ডব চলবে। আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় লাগাতার বজ্রঝড়-সহ বৃষ্টি হবে। বেশ কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতেও মেঘের গর্জন
পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশাতেও ১৫ই মে থেকে আবহাওয়ার রূপ বদলাবে। ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, গোয়া এবং মধ্য মহারাষ্ট্রেও বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো, যেমন—কেরালা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে ১৫ থেকে ১৭ই মে পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। ফলে একদিকে যখন দক্ষিণ ও পূর্ব ভারত ভিজবে, তখন উত্তর ও মধ্য ভারতের একাংশকে চাতক পাখির মতো বর্ষার অপেক্ষা করতে হবে।