২০২৭ থেকেই অনলাইনে NEET, জেনেনিন এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য কী কী বদল?

দেশজুড়ে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি’ (NEET UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানাবিধ অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা রুখতে এবার এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে আর অফলাইনে পেন-পেনসিলে ওএমআর (OMR) শিট ভরতি করে নিট পরীক্ষা দিতে হবে না পড়ুয়াদের। অন্যান্য সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো নিট-ও এবার থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে অর্থাৎ ‘কম্পিউটার বেসড টেস্ট’ (CBT) মোডে নেওয়া হবে। শুক্রবার এই বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পাশাপাশি, চলতি বছরের বিতর্কিত নিট পরীক্ষার নতুন দিনও ঘোষণা করেছে সরকার। ২০২৬ সালের নিট ইউজি-এর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
মেডিক্যাল প্রবেশিকায় স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্র যে কতটা মরিয়া, তা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের উদ্বেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরীক্ষায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া লড়াই লড়ছে এবং এক্ষেত্রে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে।”
অনলাইন পরীক্ষায় কী সুবিধা হবে?
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিটি (CBT) বা অনলাইনে পরীক্ষা চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বা ওএমআর শিটে কারচুপির মতো অনিয়মের আশঙ্কা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে। এর পাশাপাশি ডিজিটাল মূল্যায়নের কারণে পরীক্ষা শেষ হওয়ার খুব কম সময়ের মধ্যেই নির্ভুল ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
পড়ুয়াদের প্রস্তুতিতে কী বদল আসছে?
সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষার সিলেবাস বা মূল কাঠামোয় কোনও বদল আনা হচ্ছে না। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে পরীক্ষা দেওয়ার ধরনে। ওএমআর শিটে গোল করার বদলে এখন কম্পিউটারের স্ক্রিনে সঠিক উত্তরটি সিলেক্ট করতে হবে। ফলে আগামী বছর থেকে পরীক্ষায় বসতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের এখন থেকেই অন-স্ক্রিন টুল ব্যবহার এবং কম্পিউটার বেসড পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে।
২১ জুনের পুনঃপরীক্ষা: পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ছাড়
গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ৭ মে-র মধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র বিরুদ্ধে পেপার লিকসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ১২ মে-র মধ্যে পুনঃপরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপের কথা মাথায় রেখে সরকার বেশ কিছু বড়সড় স্বস্তির ঘোষণা করেছে:
-
অতিরিক্ত ফি লাগবে না: বাতিল হওয়া পরীক্ষার জন্য পড়ুয়াদের কোনও বাড়তি ফি দিতে হবে না।
-
পছন্দের শহর বাছার সুযোগ: পরীক্ষার্থীরা পুনরায় তাঁদের সুবিধাজনক পরীক্ষা কেন্দ্র বা শহর বেছে নিতে পারবেন। এই সংশোধনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে।
-
অ্যাডমিট কার্ড: আগামী ১৪ জুন পুনঃপরীক্ষার নতুন অ্যাডমিট কার্ড প্রকাশ করা হবে।
-
বাড়তি সময়: ওএমআর শিট ফিল করার জটিলতার কথা মাথায় রেখে এবার পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে।