বিশেষ: ফলহারিণী কালীপুজোয় কেন সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন রামকৃষ্ণ?

হিন্দু ধর্মে মহাশক্তি মা কালীর আরাধনা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বিভিন্ন তিথিতে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপের আরাধনা করা হয়। তার মধ্যে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত ‘ফলহারিণী কালী পুজো’ অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে দেবীর আরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত অশুভ কর্মফল দূর হয় এবং আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উন্নতি ঘটে।

সময় ও নির্ঘণ্ট

২০২৬ সালের ফলহারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ মে, শনিবার (বাংলার ১ জ্যৈষ্ঠ)। শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা মতে, অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ মে, শুক্রবার শেষরাত্রি ৪টে ৫৯ মিনিটে। এই তিথি বজায় থাকবে ১৬ মে দিবাগত রাত ১টা ৪৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পর্যন্ত।

কেন এই পুজো এত তাৎপর্যপূর্ণ?

‘ফলহারিণী’ নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই পুজোর গূঢ় অর্থ। দেবী এখানে ভক্তের আজন্ম সঞ্চিত অশুভ কর্মফল ‘হরণ’ বা গ্রহণ করেন এবং শুভ ফল প্রদান করেন। বিশ্বাস করা হয়, মা কালী সমস্ত কর্মফলের আধার। তিনি প্রসন্ন হলে মানুষ দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি পায় এবং শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক শক্তি লাভ করে।

এই পুজোর সাথে জ্যৈষ্ঠ মাসের মরসুমি ফলের এক নিবিড় যোগ রয়েছে। এই সময়ে আম, জাম, লিচু ও কাঁঠালের মতো ফল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা ভক্তরা ভক্তিভরে দেবীকে নিবেদন করেন।

রামকৃষ্ণ দেব ও ষোড়শী পুজো

ফলহারিণী কালী পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এক অনন্য অধ্যায় জড়িয়ে আছে। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় দক্ষিণেশ্বরে তিনি এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সাধনা করেছিলেন। জগত কল্যাণের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের স্ত্রী সারদা দেবীকে মহাশক্তির ‘ষোড়শী’ রূপে পুজো করেছিলেন। এই ঘটনার স্মরণে আজও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনগুলোতে এই দিনটি ‘ষোড়শী পুজো’ হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করা হয়।

ভাগ্য পরিবর্তনে ফলহারিণী পুজো

জ্যোতিষ ও শাস্ত্রীয় মতে, ফলহারিণী কালী পুজোর প্রভাবে ভক্তের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।

  • সাফল্য ও বিদ্যা: ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উন্নতি এবং কর্মক্ষেত্রে বাধা দূর করতে এই পুজো অত্যন্ত কার্যকর।

  • অর্থভাগ্য: আর্থিক অনটন কাটিয়ে উঠতে এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরিতে এই তিথিতে দেবী দর্শন শুভ বলে মানা হয়।

  • সম্পর্ক ও দাম্পত্য: পারিবারিক অশান্তি দূর করতে এবং প্রেম-প্রণয়ে বাধা কাটাতে মায়ের আশীর্বাদ বিশেষ ফলদায়ক।

মা কালী এখানে শক্তি, জ্ঞান এবং ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। বিশ্বাসী ভক্তদের মতে, নিষ্ঠাভরে মরসুমি ফল দিয়ে মায়ের পুজো করলে মোক্ষলাভের পথ প্রশস্ত হয় এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে শুভ ফলের সঞ্চার ঘটে।