ত্রিপুরায় মেগা নিয়োগের ধামাকা! একযোগে ৮৬৫ জন শিক্ষকের হাতে চাকরির চিঠি, স্বচ্ছতা নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে এবং আগামী প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল ত্রিপুরা সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলার রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোট ৮৬৫ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা শিক্ষক সমাজের দায়িত্ব ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মেধাই শেষ কথা, তদ্বিরের দিন শেষ
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান সরকারের আমলে চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ সুপারিশ বা তদ্বিরের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি নতুন পদ সৃষ্টি করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এখন মেধা ও যোগ্যতাই চাকরি পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি।” এমনকি পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
আগামী প্রজন্ম গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ
নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডিতে আটকে থাকলে চলবে না, ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাঁর মতে, একজন ছাত্র যখন সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তার আসল কৃতিত্ব প্রাপ্য শিক্ষকেরই। ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতা বুঝে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে পড়াশোনা করানোর জন্য তিনি নতুন শিক্ষকদের পরামর্শ দেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে ত্রিপুরার বিশাল সাফল্য
মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে জানান, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র শিক্ষা দপ্তরেই ৭,১০৪ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ২১,৮২৫ জন শিক্ষিত যুবক-যুবতীকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আউটসোর্সিং ও কন্ট্রাকচুয়াল ভিত্তিতে আরও ২৪,০৭৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও আধুনিক পরিকাঠামো
শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে রাজ্যের ৫৭৩টি স্কুলে দক্ষতামূলক শিক্ষা চালু হয়েছে। ডিজিটাল প্রসারে ১৩৮৪টি স্কুলে আইসিটি (ICT) প্রকল্প এবং ৯৪৯টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাস শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য ‘সক্ষম ত্রিপুরা’ এবং ছাত্রীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক উদ্যোগের কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে ত্রিপুরাকে একটি আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করা। এদিনের অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেক, সমগ্র শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজিব দত্তসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।