রান্নাঘরে আগুনের পাশে এই ভুলগুলো করছেন না তো? আপনার একটা ছোট্ট ভুলে মুহূর্তেই ছারখার হতে পারে সাধের হেঁশেল!

বাঙালি মানেই হেঁশেলে রান্নার রকমারি তোড়জোড়। কিন্তু হরেক পদের স্বাদ নিতে গিয়ে আমরা অনেক সময় রান্নাঘরের সুরক্ষার কথা মাথা থেকে বের করে দিই। সামান্য অসতর্কতা আর আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস কিন্তু রান্নাঘরকে নিমেষের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসের ওভেনের আশেপাশে রাখা কিছু জিনিস হতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদের কারণ। আপনার অগোচরেই আপনি কী কী বিপদ ডেকে আনছেন, দেখে নিন একনজরে।

গরম আগুনের পাশে কাপড় ও প্লাস্টিকের বিপদ
রান্নার সময় হাতের কাছে কাপড়ের ন্যাপকিন বা টাওয়াল রাখা আমাদের মজ্জাগত অভ্যাস। কিন্তু ওভেনের খুব কাছে এই কাপড় রাখা একদম উচিত নয়। কড়াইয়ের শিখা সামান্য কাপড় স্পর্শ করলেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইভাবে তেলের বোতল আগুনের পাশে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত তাপে প্লাস্টিকের বোতল গলে গিয়ে গরম তেলের সংস্পর্শে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তেল সবসময় ওভেন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা উচিত।

লাইটার ও শুকনো জঞ্জাল থেকে সাবধান
গ্যাস লাইটার বা দেশলাই বক্স ব্যবহারের পর আমরা ওভেনের পাশেই রেখে দিই। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত গরমে লাইটার ফেটে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এছাড়া রান্নার স্ল্যাবে জমে থাকা প্লাস্টিকের প্যাকেট, লবণের মোড়ক বা কাগজের স্তূপ আগুনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তাই রান্নার কাউন্টারটপ সবসময় পরিষ্কার রাখা ও আগুনের উৎস থেকে এসব দাহ্য বস্তু দূরে রাখা জরুরি।

কাঠের সরঞ্জাম ও মশলার কৌটো
কাঠের খুন্তি বা চপিং বোর্ড দীর্ঘক্ষণ আগুনের পাশে থাকলে তা গরম হয়ে ফেটে যেতে পারে। কাঠের গায়ে লেগে থাকা তেল আগুনের সংস্পর্শে এলে তা দ্রুত জ্বলতে শুরু করে। অন্যদিকে, লবণ, চিনি বা মশলার কৌটো আগুনের তাপ ও ভাপে থাকলে মশলার গুণমান দ্রুত নষ্ট হয় এবং কৌটোর গায়ে আঠালো ময়লা জমে যায়। একে ‘ব্লাস্ট জোন’ থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।

নিরাপদ হেঁশেলের মূলমন্ত্র
একটি আদর্শ রান্নাঘর তখনই নিরাপদ যখন ওভেনের চারপাশ থাকে শুকনো এবং ফাঁকা। ঘিঞ্জি পরিবেশে রান্না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই উনুনের চারপাশের জায়গাটি শুধুমাত্র রান্নার জন্যই বরাদ্দ রাখুন। আপনার একটু সচেতনতাই নিশ্চিত করতে পারে একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ মুক্ত ও নিরাপদ হেঁশেল।