সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর: আজ নবান্নের মেগা বৈঠক, ৪৫ দিনের ডেডলাইনে কী হতে চলেছে?

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দীর্ঘদিনের জট কি এবার কাটতে চলেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে কারা থাকছেন?
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের সচিবের নেতৃত্বে আয়োজিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলাশাসক (DM) এবং ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকরা (BLRO)। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সীমান্তে ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে ৪৫ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। আজকের বৈঠকে সেই লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি কতটা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

নবান্নের নজরে ‘ডেডলাইন’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে বারবার সীমান্তে কাঁটাতারহীন এলাকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে এই এলাকাগুলো সিল করা জরুরি। আজকের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে:

এখনও পর্যন্ত বিএসএফ-কে মোট কত জমি দেওয়া হয়েছে।

বাকি থাকা জমি অধিগ্রহণে আইনি বা সামাজিক কোনো জটিলতা আছে কি না।

নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করার চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি।

পরিসংখ্যান কী বলছে?
পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২২১৬.৭ কিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৬৪৮ কিলোমিটারে কাঁটাতার লাগানো সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটার এলাকা এখনও ‘বেড়াহীন’ অবস্থায় রয়েছে।

এই ৫৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১১৩ কিলোমিটার নদী সীমান্ত হওয়ায় সেখানে প্রথাগত কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয়। বাকি ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজ থমকে ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্র ১৮১ কিলোমিটার জমির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলেও, জমি হস্তান্তর নিয়ে জট তৈরি হয়েছিল।

জট কাটাতে সক্রিয় রাজ্য
আগে জমি হস্তান্তরে কিছুটা অনীহা থাকলেও, বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। আজকের এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জেলাস্তরের আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হতে পারে যাতে কোনোভাবেই এই জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন কাজে আর দেরি না হয়।