রেল স্টেশনে পা রাখতেই ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা! ৮৫ বছরের বৃদ্ধার চোখে জল, ভোলবদল পূর্ব রেলের

৮৫ বছর বয়সী ললিতা ঘোষের কাছে একসময় ট্রেন ভ্রমণ ছিল যন্ত্রণার অপর নাম। প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু বাংলার দহনজ্বালা আর প্ল্যাটফর্মের অসহ্য গরমের কথা ভেবেই তাঁর মনে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ত। ললিতা দেবী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে গরমের ভয়ে ট্রেন ভ্রমণে আতঙ্ক হত। বসার জায়গা বা পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব খুব ভাবাত।”
কিন্তু আজ ছবিটা বদলে গিয়েছে। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই এক সতেজ হাওয়া এবং রেলের বিশেষ তৎপরতা তাঁকে আপ্লুত করে তোলে। ললিতা দেবীর এই স্বস্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেউসকরের দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এপ্রিল মাস জুড়ে চলা এক বিশাল মিশনের ফসল।
এপ্রিল মাসেই পরিকাঠামোয় বড় চমক
গ্রীষ্মের দাবদাহ মোকাবিলায় পূর্ব রেলওয়ে এক মাসেই ৭৮টি নতুন ওয়াটার কুলার স্থাপন করেছে। যার মধ্যে শিয়ালদহে ৬টি, মালদহে ৬টি এবং আসানসোল বিভাগে একযোগে ৬৬টি কুলার বসানো হয়েছে। মালদহ বিভাগের রাজমহল স্টেশনে লাগানো হয়েছে চারটি নতুন এয়ার-সার্কুলেটিং ফ্যান। এমনকি জঙ্গিপুর রোড স্টেশনে বসানো হয়েছে পাঁচটি শক্তিশালী স্প্লিট এসি। মুঙ্গের স্টেশনের পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বসানো হয়েছে সাবমার্সিবল পাম্প।
নিরাপত্তা ও আলোর রোশনাই
রাতের যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ এখন আরও নিরাপদ। শিয়ালদহ ও মালদহ বিভাগের জনবহুল ১০টি স্টেশনে আলোর মান উন্নত করা হয়েছে। এছাড়া উখড়া ও নিউ স্টক সাইডিং ইয়ার্ডে ৭টি বিশাল হাই-মাস্ট টাওয়ার চালু করা হয়েছে।
উন্নয়ন পৌঁছেছে কর্মীদের ঘরেও
রেলওয়ের এই পরিবর্তন শুধুমাত্র স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মীদের কল্যাণে শিয়ালদহ, হাওড়া ও আসানসোলসহ বিভিন্ন কর্মশালায় ২,৪৬১টি শক্তি-সাশ্রয়ী BLDC সিলিং ফ্যান বিতরণ করা হয়েছে। রেল আবাসনে বসানো হয়েছে ৯৬টি স্মার্ট প্রি-পেইড এনার্জি মিটার।
ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত স্টেশনেও
এমনকি প্রত্যন্ত হল্ট স্টেশনগুলোকেও আধুনিক করা হচ্ছে। জগদীশপুর, বেলা হল্ট এবং তেলিয়া স্টেশনের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে। বারহারওয়া ও মণিগ্রামের মতো স্টেশনে জরুরি পরিষেবার জন্য ইনভার্টার সরবরাহ করা হয়েছে।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ট্রেন চালানো নয়, বরং প্রতিটি যাত্রীর মন জয় করা। প্রতিটি পাখা, ওয়াটার কুলার বা আলোকবর্তিকা সাধারণ মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও ঘরের মতো স্বাচ্ছন্দ্য তৈরির একেকটি ধাপ।” ললিতা দেবীর মতো লক্ষ লক্ষ যাত্রীর হাসিমুখই এখন পূর্ব রেলের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।