তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ ম্যাজিক! আস্থাভোটে জিতে নিজের কুর্সি বাঁচালেন বিজয়

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদ সুরক্ষিত রাখলেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। বুধবার সে রাজ্যের বিধানসভায় অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজগম’ (TVK)। টানটান উত্তেজনার মাঝে হওয়া আস্থাভোটে বিজয়ের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৪৪টি। তবে এই জয় কেবল বিজয়ের কুর্সি টিকিয়ে রাখেনি, বরং রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-কে (AIADMK) আড়াআড়ি ভাঙনের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সংখ্যার লড়াই ও ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা: তামিলনাড়ু নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বিজয়ের টিভিকে। সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাতে কংগ্রেস, বাম দল এবং ভিসিকে-র ওপর ভরসা করতে হয়েছিল তাঁকে। যার ফলে তাঁর পক্ষে বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১২০। কিন্তু আস্থাভোটের সমীকরণ বদলে দিলেন এআইএডিএমকে-র বিদ্রোহী বিধায়করা। ই পালানিস্বামীর কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও ২৫ জন বিধায়ক প্রকাশ্যেই বিজয়কে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে অনায়াসেই ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেন ‘থালাপতি’।

কারা ভোট দিলেন না? এদিনের আস্থাভোটে অংশ নেননি এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র বিধায়করা। এছাড়াও পিএমকে-র ৪ জন এবং বিজেপির ১ বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। আইনি জটিলতার কারণে নিজের ভোটটি দিতে পারেননি খোদ টিভিকে বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতি। মাত্র ১ ভোটে জেতায় তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলায় আদালতের নির্দেশে তিনি ভোটদান প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন।

এআইএডিএমকে-তে ভাঙন: মহারাষ্ট্রের ছায়া? নির্বাচনে ৪৭টি আসন জিতেছিল এআইএডিএমকে। বুধবার বিধানসভায় পালানিস্বামী দাবি করেছিলেন যে তাঁর দলের কোনো বিধায়ক বিজয়কে ভোট দেবেন না। কিন্তু শেষমেষ ২৫ জন বিধায়ক নেতার নির্দেশ অমান্য করে শাসক পক্ষকে সমর্থন জানানোয় দলে ভাঙন এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বা এনসিপি যেভাবে ভেঙেছে, ঠিক সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে তামিল রাজনীতিতে।

নেপথ্যে কি শাহের ছক? তামিল রাজনীতির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য এক সমীকরণ। এস পি ভেলুমণি এবং সি ভি সন্মুগমের নেতৃত্বে যে অংশটি বিজয়কে সমর্থন করেছে, তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জল্পনা বাড়ছে যে, এই দুই বিদ্রোহী নেতার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে বিজয়ের সরকারকে নিয়ন্ত্রণের ছক কষছে দিল্লি। যদিও বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁরা সরকারে যোগ দিতে চান না; কেবল দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সব মিলিয়ে, আস্থাভোটে জিতে বিজয় এখন আরও শক্তিশালী। তবে এআইএডিএমকে-র এই ঐতিহাসিক ভাঙন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।