তপসিয়া অগ্নিকাণ্ডে বড় মোড়! পাম অ্যাভিনিউ থেকে গ্রেফতার মালিক, দাউদাউ আগুনের নেপথ্যে কি বড় গাফিলতি?

তিলজলার তপসিয়ায় পাঁচতলা বাড়ির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতের ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন কারখানার মালিক জাফার নিসার। বুধবার সকালে পাম অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্য়েই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালে মৃত্যুর লড়াই
ক্যালকাটা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে গৌর সর্দার এবং মহঃ ইব্রারকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আগুনে দেহ সরাসরি পুড়ে না গেলেও, আগুনের প্রচণ্ড তাপে তাঁদের শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনের কালো ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করায় ভয়াবহ সংক্রমণ ছড়িয়েছে শরীরে। অন্য এক শ্রমিক মহঃ তানভির পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাঁর পিঠ ঝলসে গেলেও আপাতত অবস্থা স্থিতিশীল।
অ্যামাজন-লিস্টেড কোম্পানি, অথচ সুরক্ষায় বড় গলদ!
জানা গিয়েছে, ‘ডেল্টা লেদার কর্পোরেশন’ নামে ওই সংস্থাটি ২০০৬ সাল থেকে নথিভুক্ত এবং এমনকি অ্যামাজন গ্লোবালের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও তাদের পণ্য বিক্রি হতো। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় কারখানাটি চললেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অভিযোগ, জানলা-দরজা বন্ধ করে কাজ চালানো হতো সেখানে। শর্ট সার্কিটের পর অন্ধকার এবং দমবন্ধ করা ধোঁয়ায় শ্রমিকরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেননি।
তদন্তে পুলিশ ও দমকল
৫০/১-ডি/১ গুলাম জিলানী রোডের এই কারখানাটি বাবা ও দুই ছেলে পার্টনারশিপে চালাতেন। ঘিঞ্জি রাস্তা এবং তারের জঞ্জালের কারণে দমকলের কাজ করতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কারখানাটির বৈধ ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না, তা জানতে দমকল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। মালিক নিসার আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর এবার কারখানার পরিকাঠামো নিয়ে তদন্ত আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।