২৭ লক্ষ ভোটারের নাম গায়েব! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে রেশন—সব সুবিধা কি বন্ধ হচ্ছে? তোলপাড় বাংলা!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে দানা বাঁধছে চরম আতঙ্ক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং তার জেরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় রাতারাতি ঘুম উড়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের। নতুন বিজেপি সরকারের কড়া অবস্থানের জেরে যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত নেই অথবা যাঁদের আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিচয় সঙ্কটে আমজনতা রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে খবর। এর মধ্যে আরও প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের আপিল এখনও ঝুলে রয়েছে ট্রাইব্যুনালে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। পার্ক সার্কাসের এক গৃহবধূর কথায় ফুটে উঠেছে সেই যন্ত্রণার ছবি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। তাঁর পরিবারের বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও শুধু তাঁর নামটিই গায়েব হয়ে গিয়েছে। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই বৈষম্য তাঁকে এখন নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

বন্ধ হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও? ভয় শুধু প্রকল্পের টাকা মেলা নিয়ে নয়, মেটিয়াবুরুজের এক বাসিন্দার আশঙ্কা আরও গভীর। তাঁর ও তাঁর স্বামীর নাম দুজনেই বাদ পড়ায় তাঁরা এখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, ভোটার কার্ড না থাকলে কি ভবিষ্যতে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার বা প্যান কার্ডও প্রশ্নের মুখে পড়বে?

সরকারের কড়া বার্তা যদিও সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়া মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রুটিনি। যাঁদের আবেদন বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

রাজনীতি ও আইনি জটিলতা আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে। বিশেষ করে সামনেই স্থানীয় নির্বাচন, তার আগে এই ‘ভোটার জট’ ভোটারদের মনে ক্ষোভ না কি ভয়—কোন দিকে পাল্লা ভারি করবে, সেটাই এখন দেখার। ট্রাইব্যুনালের শুনানি কবে হবে বা আদৌ কি এই ২৭ লক্ষ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন, সেই উত্তর এখনও ভবিষ্যতের গর্ভে। আপাতত প্রকল্পের টাকা আর নাগরিকত্বের শংসাপত্র—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।