সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: মমতা যা পারেননি, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তা করে দেখালেন শুভেন্দু? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে কয়েকদিন আগেই। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মসনদে বসেই ‘অ্যাকশন মোডে’ দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীকে। সোমবার নবান্নে নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষেই একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো— বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তর।

কেন এই তাড়াহুড়ো? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে কোনো আপস করা হবে না। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই সমস্যার সমাধানে তিনি প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার স্রেফ ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রক্ষা করতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিতেই এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল। কিন্তু নতুন সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

৪৫ দিনের ডেডলাইন মুখ্যমন্ত্রী কেবল নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি হস্তান্তরের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। আজ থেকেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য মুখ্যসচিব ও ভূমি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করছে নবান্ন।

শুভেন্দুর ‘বিরাট ৬’ সিদ্ধান্ত এদিনের বৈঠকে কেবল সীমান্ত সমস্যা নয়, আরও একাধিক জনহিতকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে:

  • আয়ুষ্মান ভারত: আজ থেকেই রাজ্যে কার্যকর হলো কেন্দ্রের ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা।

  • চাকরিতে ছাড়: সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সে ৫ বছরের বিশেষ ছাড় ঘোষণা।

  • উজ্জ্বলা যোজনা: গরিব মানুষের ঘরে বিনামূল্যে গ্যাস পৌঁছে দিতে এই প্রকল্প চালু।

  • জনশুমারি (Census): ১১ মাস ধরে আটকে থাকা জনগণনা প্রক্রিয়া রাজ্যে দ্রুত শুরু করার নির্দেশ।

  • নতুন আইন (BNS): সংবিধান মেনে রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বলবৎ করা।

  • সামাজিক প্রকল্প: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্য সাথীর মতো কোনো প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনেই বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁর আমলে ‘তোষণ’-এর রাজনীতির চেয়ে ‘সুরক্ষা’ বেশি গুরুত্ব পাবে। এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিরোধীদের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে সামাজিক প্রকল্প বহাল রাখা এবং একই সাথে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করা— শুভেন্দুর এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ চাল এখন বাংলার রাজনীতির মূল আলোচনার বিষয়।