শপথ নিয়েই মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর! প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ৬টি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, কাঁপছে বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শপথ গ্রহণের পর মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে কাজে নেমে পড়লেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পাঁচজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে নবান্নে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্পন্ন করেন তিনি। আর সেই প্রথম বৈঠকেই একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর সরকার গতানুগতিক পথে হাঁটবে না।
সীমান্তের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জট কাটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এতদিন জমি জটের কারণে বিএসএফ-এর বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুশির খবর
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে শুভেন্দু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় অনেক চাকরিপ্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানো হলো।
শহিদ কর্মীদের সম্মান ও পরিবারের দায়িত্ব
গত কয়েক বছরে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা অকালে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সরকার দায়বদ্ধ। তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন থেকে রাজ্য সরকার বহন করবে।”
কেন্দ্রী প্রকল্পের প্রবেশ ও প্রশাসনিক সংস্কার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট করে দেন, এবার থেকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষাণ সম্মান নিধি, পিএম বিশ্বকর্মা এবং বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-এর মতো সমস্ত প্রকল্প পুরোদমে চালু হবে। বিশেষ করে উজ্জ্বলা যোজনার বকেয়া অনুমোদনগুলি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, রাজ্যে অবিলম্বে নতুন ফৌজদারি আইন (বিএনএস) কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শুভেন্দুর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রীয় আইন না মেনে সংবিধান লঙ্ঘন করেছিল, যা এবার সংশোধন করা হলো। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে শুরু হতে চলা জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকাও কার্যকর করার সবুজ সংকেত দিয়েছে নতুন ক্যাবিনেট।
প্রথম বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিনের এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন যে, রাজ্যের প্রশাসনিক এবং উন্নয়নমূলক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে তিনি বদ্ধপরিকর।