“বাংলাদেশের দিকে নয়, ভারত হবে লক্ষ্য!” নবান্নে পা রাখার আগেই মমতাকে তুলোধনা দিলীপের, আজই কি মেগা দফতর?

বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থানের অন্যতম কারিগর তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার বাংলায় বড় সাফল্যের মুখ দেখেছিল গেরুয়া শিবির। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে এবার সেই দিলীপ ঘোষ পৌঁছে গিয়েছেন ক্যাবিনেটে। ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে ইতিমধ্যেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। আজ, সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে কোন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা।
“এগিয়ে বাংলা নয়, ভারতকে লক্ষ্য করব”
সোমবার সকালে বেলেঘাটার সরকার বাজার এলাকায় প্রথাগত ‘চা-চক্র’-এ যোগ দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো কম্পন ধরিয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের আগে তিনি সাফ জানান, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দিল্লির পাঠানো যে সব টাকা আটকে দিয়েছিল, এখন থেকে সাধারণ মানুষ সেই সব সুবিধা সরাসরি পাবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এগিয়ে বাংলা’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “দিদিমণি এগিয়ে বাংলা বলে মানুষকে আসলে পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আমরা ভারতের দিকে এগিয়ে থাকব, বাংলাদেশের দিকে নয়। রাতারাতি সোনার বাংলা হবে না ঠিকই, কিন্তু সোনার বাংলা না করে আমরা ছাড়ব না।”
“তোমাদের জুতোপেটা করা উচিত ছিল”
এদিন বেলেঘাটাতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলকে বিঁধে তিনি বলেন, “তোমাদের তো জুতোপেটা করা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা করা হয়নি। তোমাদের ঘরছাড়া করা উচিত ছিল, আমরা করিনি। তোমরা নিজেদের পাপেই আজ ঘরছাড়া।” বাংলায় ‘ভয়ের রাজনীতি’ এবং ‘তোলাবাজি’ চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও এদিন হুঙ্কার ছাড়েন তিনি।
পুলিশকেও কড়া হুঁশিয়ারি
এদিন দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, বেলেঘাটায় তাঁর পুরোনো চায়ের দোকানটিও শাসক দলের মদতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ এখন ফোন করে গণ্ডগোল না করার অনুরোধ জানাচ্ছে। পাল্টা জবাবে দিলীপ বলেন, “যারা ১৫ বছর মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তারা ১৫ দিন কষ্ট সহ্য করতে পারবে না? আমরা কোনোদিন গণ্ডগোল করিনি, যারা করত তাদের এতদিন পুলিশ পাহারা দিয়েছে।”
নবান্নে আজ হাই-ভোল্টেজ দিন
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজই কাজ শুরু করছেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল ১১টা নাগাদ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। দিলীপ ঘোষ ছাড়াও অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদের কার হাতে কোন মন্ত্রক যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। তবে দফতর পাওয়ার আগেই দিলীপ ঘোষ যেভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন, তাতে স্পষ্ট যে নবান্নের নতুন ইনিংস বেশ ঝোড়ো হতে চলেছে।