বক্সের ওপর থাকা ওই স্টিকারেই লুকিয়ে বিপদ! কেনাকাটার পর এই কাজটি করা বাধ্যতামূলক

বর্তমান সময়ে কেনাকাটা মানেই আমাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স সাইটে ভরসা রাখা। দরজায় কড়া নেড়ে ডেলিভারি বয় যখন প্যাকেটটি হাতে দিয়ে যান, তখন আমাদের আনন্দ ধরে না। কিন্তু সেই আনন্দই বিষাদে পরিণত হতে পারে কেবল আপনার একটি ছোট্ট অসাবধানতায়। অনলাইন কেনাকাটার পর আমরা সাধারণত প্যাকিং বক্সটি কোনো ভাবনাচিন্তা ছাড়াই আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিই। আর এখানেই ওত পেতে বসে থাকে সাইবার অপরাধীরা।

কীভাবে কাজ করছে এই প্রতারণা চক্র?

সম্প্রতি সাইবার বিশেষজ্ঞরা একটি নতুন ধরণের জালিয়াতির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। যখনই কোনো পার্সেল আপনার বাড়িতে আসে, তার ওপর একটি শিপিং লেবেল বা স্টিকার লাগানো থাকে। এই লেবেলে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, বাড়ির সঠিক ঠিকানা এবং এমনকি মাঝে মাঝে পেমেন্টের কিছু তথ্যও উল্লেখ থাকে।

আমরা যখনই বক্সটি বাইরে ফেলে দিই, প্রতারকরা সেই পরিত্যক্ত বক্স থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে নেয়। এরপর আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে আপনার নাম ও ঠিকানাকে হাতিয়ার করে তারা ভুয়ো কল বা মেসেজ পাঠায়। কখনো ‘রিফান্ড’ দেওয়ার টোপ দিয়ে, আবার কখনো ‘লাকি ড্র’-তে দামী উপহার জেতার প্রলোভন দেখিয়ে আপনার ফোনে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই নিমেষের মধ্যে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিষ্কার করে দেয় তারা।

বিপদ এড়াতে আপনার করণীয়:

প্রতারকদের এই নতুন কৌশল থেকে বাঁচতে সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞরা নিচে দেওয়া পদক্ষেপগুলি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন:

  • লেবেল নষ্ট করুন: প্যাকেট বা বক্সটি ফেলে দেওয়ার আগে অবশ্যই তার ওপর থাকা আপনার নাম, ঠিকানা এবং বারকোড সম্বলিত স্টিকারটি ছিঁড়ে ফেলুন বা কালি দিয়ে এমনভাবে মুছে দিন যাতে কিছু পড়া না যায়।

  • ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা: যেকোনো বক্স ডাস্টবিনে ফেলার আগে নিশ্চিত করুন সেখানে আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য যেন দৃশ্যমান না থাকে।

  • অযাচিত লিঙ্কে ক্লিক নয়: কোনো ই-কমার্স সাইটের নাম করে আসা সন্দেহভাজন লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। রিফান্ড বা অফারের জন্য সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, চোর-জোচ্চোরদের হাতও ততটাই লম্বা হচ্ছে। তাই আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে পছন্দের জিনিস কেনার পর আনন্দ করুন ঠিকই, তবে নিজের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত রাখতে আজ থেকেই সচেতন হন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সচেতনতাই পারে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি রুখে দিতে।