অভিষেক-গড়ে মহাপ্রলয়! বিজেপি কর্মী খুনে এবার অবরুদ্ধ পথ, পুলিশের সাথে হাতাহাতি— উত্তপ্ত ডায়মন্ড হারবার

২০২৬-এর মে মাসের তপ্ত দুপুরে এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল ডায়মন্ড হারবার। দলীয় কর্মী খুনের প্রতিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এর ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিশাল অংশে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।

বিক্ষোভের মূলে কী? বিজেপির অভিযোগ, গতরাতে এলাকায় এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। গেরুয়া শিবিরের সরাসরি নিশানায় রয়েছে শাসক দল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে এদিন সকাল থেকে ডায়মন্ড হারবারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো দখল করে নেন আন্দোলনকারীরা। রাস্তার ওপর বসে পড়ে চলে স্লোগানবাজি।

রণক্ষেত্র ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। আটকে পড়েছে বহু বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও নিত্যযাত্রীদের গাড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে ধন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর বিজেপি নেতা তথা নবনির্বাচিত বিধায়কদের দাবি, “ডায়মন্ড হারবারে গণতন্ত্রের নাম করে গুণ্ডারাজ চলছে। আমাদের কর্মীদের প্রাণ যাচ্ছে অথচ প্রশাসন নীরব। যতক্ষণ না খুনিরা জালে আসছে, ততক্ষণ এই অবরোধ উঠবে না।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি— এই ঘটনার সাথে রাজনীতির যোগ নেই, এটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল। বিজেপি অহেতুক রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে।

উত্তেজনা চরমে বর্তমানে এলাকায় র‍্যাফ (RAF) নামানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা অনড়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে, বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্থানীয় বাজারঘাটও।

তিলোত্তমার উপকণ্ঠে ডায়মন্ড হারবারে এই খুনের রাজনীতি কি তবে ২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।