অক্ষয়ের জন্য কি কোপ পড়ল তাবুর দৃশ্যে? ‘ভূত বাংলা’র সাফল্যে বিষ ঢালছে কারা? আসল সত্য ফাঁস করলেন প্রিয়দর্শন

বক্স অফিসে ‘ভূত বাংলা’র জয়রথ অব্যাহত। প্রিয়দর্শন ও অক্ষয় কুমার জুটির এই কামব্যাক ছবি যখন দর্শকদের প্রশংসা কুড়োচ্ছে, ঠিক তখনই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই ছবিতে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তাবুর ‘স্ক্রিন টাইম’ বা উপস্থিতির সময় নাকি জানলা দিয়ে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। আর এই ঘটনার নেপথ্যে নাকি স্বয়ং অক্ষয় কুমারের হাত রয়েছে!

কী সেই ভাইরাল দাবি?
ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, তাবু যখন ‘ভূত বাংলা’ ছবির চুক্তিতে সই করেছিলেন, তখন তাঁর চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও বড়। অভিনেত্রী সেই অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু এডিটিং টেবিল থেকে ছবি বেরোনোর পর দেখা যায়, তাবুর উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। এমনকি অভিযোগের আঙুল তোলা হয় অক্ষয় কুমারের দিকে— দাবি করা হয়, নিজের গুরুত্ব বাড়াতে অক্ষয়ের অনুরোধেই নাকি তাবুর দৃশ্যে কাঁচি চালিয়েছেন পরিচালক। এমনকি এই ঘটনার পর তাবু নাকি ভবিষ্যতে অক্ষয় বা এই টিমের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।

চুপ থাকলেন না প্রিয়দর্শন
নেতিবাচক এই গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, তখন ময়দানে নামলেন খোদ পরিচালক প্রিয়দর্শন। অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই সব রটনা খণ্ডন করেছেন তিনি। পরিচালকের কথায়, “আমি জানি না কারা এই সব মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছে। ছবিটা দারুণ সফল হয়েছে, আর ঠিক এই সময় কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

তাবুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রিয়দর্শন বলেন, “তাবুর সঙ্গে আমি আটটি ছবি করেছি। ও যদি বিরক্ত হতো, তবে আমাকে সরাসরি বলত। কিন্তু ও এই ছবি নিয়ে অত্যন্ত খুশি। ও যা যা শুট করেছে, তার প্রতিটি সেকেন্ডই ছবিতে রাখা হয়েছে।”

অক্ষয়ের ‘স্বভাব’ নিয়ে বয়ান
অক্ষয় কুমার কি সত্যিই তাবু’র দৃশ্য কাটছাঁট করার অনুরোধ করেছিলেন? এই দাবিকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক। তাঁর সাফ কথা, “অক্ষয় কখনও আমাকে কোনো দৃশ্য এডিট করার জন্য বলেনি, ওটা ওর স্বভাবের মধ্যেই নেই। আমি সবসময় সততার সঙ্গে কাজ করি। ছবি মুক্তির আগেই প্রতিটি অভিনেতা পুরো ছবিটা দেখে নিয়েছেন এবং তাঁরা প্রত্যেকেই সন্তুষ্ট। যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, এর আগে রানি মুখোপাধ্যায়ও ‘ওএমজি ৩’ থেকে চরিত্র ছোট হওয়ার আশঙ্কায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে খবর রটেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এই তাবু-অক্ষয় বিতর্ক দানা পাকিয়েছিল। তবে প্রিয়দর্শনের এই মন্তব্যের পর আশা করা হচ্ছে, ‘ভূত বাংলা’ নিয়ে চলা যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটবে।