বিজয়কে ধাক্কা রাজ্যপালের! ১০ জন বিধায়কের হিসেবে গরমিল? দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এবার কোন বড় মোড়?

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় ওরফে ‘থলাপতি’-র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে বড়সড় আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হলো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, সরকার গঠনের দাবি জানাতে গিয়ে রাজভবনে ধাক্কা খেলেন ‘তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম’ (TVK) প্রধান। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি বিজয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ১১৮। সেখানে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) পেয়েছে ১০৮টি আসন। অর্থাৎ, এককভাবে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে ঠিক ১০টি আসন দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। যদিও কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক এবং আরও কিছু ছোট দলের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজভবনে গিয়েছিলেন বিজয়, কিন্তু রাজ্যপাল সেই হিসেবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
সূত্রের খবর, রাজ্যপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সমর্থনকারী বিধায়কদের স্বাক্ষর এবং নিঃশর্ত সমর্থনের তালিকায় কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। এছাড়াও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যে ১১৩-১১৪ জন বিধায়কের দাবি বিজয় করছেন, তা সরকার গঠনের নিরাপদ সীমা (১১৮) ছুঁতে পারছে না। ফলে রাজভবন এখনই তাঁকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানাতে নারাজ।
এই ঘটনার পর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলো যখন বিজয়ের এই হোঁচট খাওয়াকে কটাক্ষ করছে, তখন বিজয়ের অনুগামীরা একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছেন। ঘোড়া কেনাবেচা রুখতে ইতিমধ্যেই টিভিকে (TVK) এবং কংগ্রেসের বিধায়কদের গোপন আস্তানায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপাল বিজয়ের দাবির ওপর ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করায় তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিজয় কি পারবেন বাকি ১০ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে? নাকি দাক্ষিণাত্যের এই নতুন সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে অন্য কোনো নামি পক্ষ বাজিমাত করবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের নজর।