ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে হঠাৎ কেন সরব ঋজু? সবুজ শিবিরের বিপর্যয়ে তৃণমূল মুখপাত্রের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বাংলার রাজনীতির হাওয়া যে গত ৪ মে-র পর থেকে আমূল বদলে গিয়েছে, তার আঁচ এবার পাওয়া যাচ্ছে শাসকদলের অন্দরেই। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূলের আশাতীত বিপর্যয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলবদল এবং সুর বদলের পালা। এই আবহে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা দলের দাপুটে মুখপাত্র ঋজু দত্তের সাম্প্রতিক অবস্থান।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন তৃণমূলের পরাজয়ের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জায়গায় ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা গেল ঋজু দত্তকে। এতদিন যে নেতাকে টিভির পর্দায় বা জনসভায় দলের হয়ে কট্টর সওয়াল করতে দেখা যেত, সেই নেতাই এবার ‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস’ নিয়ে অকপট অবস্থান নিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শাসকদলের অনেক নেতাই এখন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। ঋজু দত্তের মতো একজন প্রথম সারির মুখপাত্রের গলায় যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুর শোনা যায়, তখন দলের অন্দরে যে ফাটল ধরেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে নিচু তলার কর্মীদের দলবদল, আর অন্যদিকে মুখপাত্রের এই ‘ভোলবদল’— সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি এখন চরমে।

কেন হঠাৎ এমন ভোলবদল? তবে কি তিনিও অন্য কোনো শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছেন, নাকি হারের গ্লানি থেকে দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ৪ তারিখের পর থেকেই বাংলার বাতাসে পরিবর্তনের এক নতুন গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঋজু দত্তের এই ভোলবদল সেই পরিবর্তনেরই অংশ কি না, তা সময়ই বলবে।

বর্তমানে সমাজমাধ্যমেও ঋজু দত্তের এই মন্তব্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা একে ‘সময়ের দাবি’ বলে কটাক্ষ করছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও এই রাজনৈতিক পালাবদলের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। আগামী দিনে ঘাসফুল শিবিরে এই পরিবর্তনের ঝাপটা আর কতজনকে টলিয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।