কোচি বন্দরে ডাচ ‘সমর দানব’! ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জলসীমানায় কাঁপন ধরাবে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ?

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করতে ফের একজোট ভারত ও নেদারল্যান্ডস। ৪ মে, ২০২৬ তারিখে কেরলের কোচি বন্দরে এসে পৌঁছল রয়্যাল নেদারল্যান্ডস নেভির অন্যতম শ্রেষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ এইচএনএলএমএস ডি রুইটার (F804)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পাঁচ মাসের দীর্ঘ মেয়াদী মিশনের অংশ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজকীয় অভ্যর্থনা কোচি বন্দরে
কোচি বন্দরে ডাচ যুদ্ধজাহাজটি প্রবেশ করতেই ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সেটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে দ্রুতগামী ইন্টারসেপ্টর যান। নৌ-ব্যান্ডের সুর এবং আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে জাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। এই সফরে জাহাজের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন রয়্যাল নেদারল্যান্ডস নেভির ডেপুটি কমান্ডার মেজর জেনারেল রব ডি উইট এবং রাষ্ট্রদূত মারিসা জেরার্ডস।
সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নয়া অধ্যায়
ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে। সফর চলাকালীন ডাচ ডেপুটি কমান্ডার এবং সাউদার্ন নেভাল কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল প্রকাশ গোপালনের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-প্রশিক্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রশস্ত করাই ছিল এই আলোচনার মূল নির্যাস।
ডাচ প্রতিনিধিদলটি কোচির নৌ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন এবং ভারতের আধুনিক সিমুলেটর ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। এছাড়া তাঁরা কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড ঘুরে দেখেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুরু হচ্ছে ‘প্যাসেক্স’ মহড়া
কোচি বন্দর ত্যাগের পর ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘প্যাসেক্স’ (PASSEX) মহড়ায় অংশ নেবে এইচএনএলএমএস ডি রুইটার। এটি মূলত একটি বিমান প্রতিরক্ষা এবং কমান্ড ফ্রিগেট, যা রয়্যাল নেদারল্যান্ডস নেভির সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে একটি। এই মহড়া দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় এবং অভিযানিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
“জলপথ আমাদের এক করেছে”
সফর প্রসঙ্গে ডি রুইটার-এর কমান্ডিং অফিসার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত ও নেদারল্যান্ডস ভৌগোলিকভাবে হাজার মাইল দূরে হলেও একই জলপথ আমাদের বাণিজ্য এবং নিরাপত্তাকে সংযুক্ত করেছে। ভারত মহাসাগরের ওপর গোটা বিশ্ব নির্ভরশীল এবং সেই জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব। কোচিতে আমাদের এই উপস্থিতি কেবল সৌজন্যমূলক নয়, এটি একটি সক্রিয় অংশীদারিত্বের প্রমাণ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ভারত মহাসাগর—বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডাচ নৌবাহিনীর এই উপস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে যৌথ মহড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ সাহায্য করবে।