পতনের মুখে স্টালিন সরকার! বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের? তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মহা-বিস্ফোরণ!

দক্ষিণের রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে-র হাত ছেড়ে অভিনেতা বিজয় থালাপথির নতুন দল ‘টিভিকে’ (TVK)-র দিকে ঝুঁকল কংগ্রেস। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরকার গড়তে মরিয়া বিজয়। আর সেই লক্ষ্যেই কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় কার্যত ভাঙনের মুখে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ‘ডিএমকে-কংগ্রেস’ জোট।
বিজয়ের বাজিমাত: ১০৮ আসনে জয়
রাজনীতিতে পা রেখেই ছক্কা হাঁকালেন থালাপথি বিজয়। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, শাসকদল ডিএমকে মাত্র ৫৯টি আসনে থমকে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়েছে। এডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন এবং কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৫টি আসন। ডিএমকে সরকারের মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্যই এবারের নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছেন।
কংগ্রেসের কৌশল বদল: বিজয়ের আবেদনে সাড়া?
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, টিভিকে সভাপতি বিজয় থালাপথি সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেসের নিঃশর্ত সমর্থন চেয়েছেন। বিজয় জানিয়েছেন, তিনি কামরাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়তে চান। ভেনুগোপাল স্পষ্ট করেছেন যে, তামিলনাড়ুর মানুষ একটি সংবিধান-রক্ষাকারী সরকার চেয়েছে। বিজেপি এবং তাদের মিত্রদের রুখতে যা যা করা দরকার, কংগ্রেস তাই করবে। এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের অনুরোধ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য কংগ্রেস কমিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছে হাইকম্যান্ড।
মণিকম ঠাকুরের বিস্ফোরক টুইট
কংগ্রেস সাংসদ মণিকম ঠাকুর টুইট করে বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি লেখেন, “জনগণের রায় বর্তমান ডিএমকে সরকারের বিপক্ষে গিয়েছে। আমাদের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও জোটসঙ্গী হিসেবে আমরা ক্ষতির শিকার হয়েছি। এখন বিজেপির নজর তামিলনাড়ুর দিকে। আমাদের সামনে প্রশ্ন একটাই—জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের পাশে থাকব, নাকি যারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে তাদের সঙ্গে একজোট হব?” তাঁর এই বক্তব্য ডিএমকে জোটের কফিনে শেষ পেরেক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যপালের সবুজ সংকেত
সরকার গঠন প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “আমি টিভিকে-র কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। আজ সন্ধ্যায় তারা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করেছে এবং সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর অনুরোধ করেছে। হ্যাঁ, বিজয়ের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হবে।”
তামিলনাড়ুর মসনদে এখন বিজয়ের বসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। স্টালিন জমানার অবসান ঘটিয়ে রূপালি পর্দার সুপারস্টার এবার বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন।