হাসির লড়াইয়ে কে সেরা, নারী না পুরুষ? গবেষণায় উঠে এল এমন তথ্য যা শুনে আপনিও চমকে যাবেন!

আড্ডার আসরে হাসাহাসি তো চলতেই থাকে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই হাসির দৌড়ে পাল্লা দিলে কে আগে শেষ রেখা স্পর্শ করবেন? নারী না কি পুরুষ? সাধারণ মানুষের ধারণা, মেয়েরাই বেশি প্রাণখোলা এবং তাঁরাই বেশি হাসেন। তবে মনোবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গল্পের মোড় আসলে অন্য জায়গায়।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. রবার্ট প্রোভাইন ১২০০ মানুষের ওপর একটি দীর্ঘ সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, কথা বলার সময় নারীরা পুরুষদের তুলনায় ১২৬% বেশি হাসেন। অর্থাৎ, পরিমাণের দিক থেকে মেয়েরাই এগিয়ে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আসল ‘টুইস্ট’ লুকিয়ে আছে হাসানোর ক্ষমতায়।
পুরুষরা হাসেন কম, হাসান বেশি!
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় ৬২% বেশি কৌতুক বা মজার কথা বলেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পুরুষরা আড্ডার আসরে ‘পারফর্মার’ হিসেবে থাকতে ভালোবাসেন, আর মহিলারা আদর্শ ‘শ্রোতা’ হিসেবে সেই হাসিতে অংশ নেন।
কেন এই পার্থক্য? বিবর্তন না কি সামাজিক কারণ?
ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের গবেষকদের মতে, এর শিকড় লুকিয়ে আছে আদিম বিবর্তনে:
-
পুরুষের কৌশল: আদিম যুগে দলবদ্ধভাবে থাকার জন্য অন্যকে নিজের দলে টানার কৌশল ছিল রসিকতা। ছেলেদের কাছে হাসানো মানেই হলো সামাজিক প্রভাব বিস্তার করা।
-
নারীর সহমর্মিতা: মহিলারা যখন দলবদ্ধভাবে কাজ করতেন, তখন একে অপরের প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করতে হাসিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।
সম্পর্ক ও হাসির রসায়ন
-
প্রেমের সমীকরণ: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, ছেলেরা যখন পছন্দের মানুষকে ইমপ্রেস করতে চান, তখন তাঁরা বেশি জোকস বলেন। অন্যদিকে, কোনো মেয়ে যদি কোনো ছেলেকে পছন্দ করেন, তবে তিনি সাধারণের চেয়ে ৩ গুণ বেশি হাসেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি আসলে একটি অবচেতন ‘গ্রিন সিগন্যাল’।
-
মস্তিষ্কের খেলা: এমআরআই (MRI) স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, কোনো জোকস শুনে মেয়েদের মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’ ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়। তাই মেয়েরা সহজে হাসেন, আর ছেলেদের মস্তিষ্ক নতুন নতুন মজার বিষয় তৈরিতে ব্যস্ত থাকে।
বন্ধুত্বের আড্ডায় তফাত
ছেলেদের গ্রুপে সাধারণত একে অপরকে ‘পচানো’ বা খোঁচা দিয়ে হাসির রোল ওঠে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে হাসিটা আসে মূলত নিজেদের অভিজ্ঞতা বা মজার গল্প শেয়ার করার মাধ্যমে। আবার মানসিক চাপের সময় পরিস্থিতি হালকা করতে মেয়েরা হাসির সাহায্য নিলেও, ছেলেরা টেনশনের সময় উল্টো চুপ হয়ে যেতে পছন্দ করেন।
সারসংক্ষেপ: সংক্ষেপে বলতে গেলে, সংখ্যায় মেয়েরা বেশি হাসেন ঠিকই, কিন্তু পুরুষরা হাসান বেশি। আপনার চারপাশের আড্ডায় এই তত্ত্ব কতটা মেলে? আমাদের কমেন্টে জানান!