‘ভিতরে ভিতরে হেরে গেছে দিদি!’ তৃণমূলের সতর্কবার্তাকেই বড় হাতিয়ার করলেন দিলীপ, ৪ মে-র আগে তোলপাড় রাজ্য

রাত পোহালেই ইভিএম বন্দি জনমতের প্রতিফলন। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে হাই-ভোল্টেজ ভোট গণনা। কিন্তু তার আগেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূলও জানে বাংলায় এবার বিজেপির সরকার হবে।” ফলতার সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের গায়ে ‘ব্ল্যাকস্পট’ বা কলঙ্ক বলে দেগে দিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা করেন তিনি।

তৃণমূলের সতর্কবার্তায় হারের সুর? ভোট গণনার আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আর এই বিষয়টিকেই তুরুপের তাস করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “যে সতর্কতার বার্তা আগে আমরা দিতাম, এখন সেটাই তৃণমূল দিচ্ছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে ওরা ভিতরে ভিতরে হেরে গেছে। জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলে এমন ভয় বা সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।” দিলীপের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে হারের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেই তারা এখন অতি-সতর্ক।

ফলতা নিয়ে কড়া আক্রমণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ঘটনা নিয়ে এদিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসেও সন্ত্রাস থামেনি। ফলতার ঘটনাকে বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে একটি কালো দাগ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল মরিয়া চেষ্টা চালালেও সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

প্রস্তুত বিজেপি শিবির ৪ মে-র ফলাফল নিয়ে দিলীপ ঘোষের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাঁর মতে, উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই পদ্ম শিবিরের অনুকূলে হাওয়া বইছে। গণনাকেন্দ্রে বিজেপি এজেন্টদের ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, তাঁর দাবি এবার বিজেপি কর্মীরাও প্রতিরোধের জন্য তৈরি।

রাজ্যের মসনদ কি শেষ পর্যন্ত ঘাসফুলের হাত থেকে পদ্ম শিবিরের দখলে যাবে? দিলীপ ঘোষের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ কতটা সফল হয়, তা জানতে এখন কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবার সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে কাউন্টডাউন।