উড়ান কমছে এয়ার ইন্ডিয়ার! টিকিটের দাম না কি অন্য কিছু? আকাশছোঁয়া খরচে বিপাকে সংস্থা

বিমান যাত্রীদের জন্য এক চরম দুশ্চিন্তার খবর শোনাল দেশের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। জেট ফুয়েলের (ATF) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আকাশসীমা ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধের জেরে এবার উড়ানের সংখ্যা কমিয়ে আনার পথে হাঁটছে এই মহারাজা। সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক আন্তর্জাতিক উড়ান চালানো সংস্থার পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল এবং মে মাসে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু উড়ান কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি তাতেও নিয়ন্ত্রণে না আসায় আগামী জুন ও জুলাই মাসে উড়ানের সংখ্যা আরও কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন উইলসন। তাঁর মতে, লম্বা রুটের আন্তর্জাতিক উড়ানগুলি বর্তমান জ্বালানি খরচে চালাতে গেলে লাভের বদলে বিপুল লোকসান হচ্ছে।
সমস্যার মূলে কী?
মূলত তিনটি কারণে এই সংকটের মুখে পড়েছে সংস্থাটি:
-
জ্বালানির চড়া দাম: জেট ফুয়েলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় পরিচালনার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
-
আকাশপথের বিধিনিষেধ: নির্দিষ্ট কিছু রুটে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিমানকে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
-
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রভাব কি দেশের অভ্যন্তরেও পড়বে?
সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুটের তুলনায় অভ্যন্তরীণ রুটে প্রভাব কিছুটা কম। কারণ ভারত সরকার দেশের ভেতরের উড়ানের জন্য জ্বালানির দামের বৃদ্ধি ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও দেশের ভেতরের রুটেও লাভের অঙ্ক অনেকটাই কমেছে।
পকেটে টান পড়বে যাত্রীদের
খরচ সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই বিমান ভাড়া বাড়ানো এবং ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বসানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে উইলসন স্বীকার করেছেন যে, ভাড়ার হার অনির্দিষ্টকাল বাড়ানো সম্ভব নয়। কারণ এতে যাত্রীদের মধ্যে বিমান সফরের চাহিদা কমে যাওয়ার ভয় রয়েছে।