৬৭টি ‘ঘাতক’ ড্রোন কেনার সবুজ সংকেত! সীমান্তে কি এবার মহাপ্রলয়? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক

সীমান্তে শত্রুদেশের ক্রমাগত উস্কানি আর পাল্টে যাওয়া যুদ্ধের কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে এবার আকাশপথে নিজেদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে নিল ভারত। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৬৭টি অত্যাধুনিক স্টেলথ কমব্যাট ড্রোন ‘ঘাতক’ কেনার ছাড়পত্র দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ডিআরডিও-র (DRDO) এই মেগা প্রকল্প ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে এমন এক অস্ত্র তুলে দিতে চলেছে, যার নাম শুনলেই এবার রাতের ঘুম উড়বে শত্রুপক্ষের।

শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে হামলা ‘ঘাতক’ কোনো সাধারণ নজরদারি ড্রোন নয়, এটি একটি চালকবিহীন যুদ্ধবিমান বা ইউসিএভি (UCAV)। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি এবং ‘ফ্লাইং-উইং’ ডিজাইন। অর্থাৎ, এটি যখন শত্রুদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করবে, তখন তাদের রাডার ব্যবস্থা টেরই পাবে না যে যমদূত মাথার ওপর ঘোরাফেরা করছে। ১৩ টন ওজনের এই ড্রোনটি নিঃশব্দে শত্রু শিবিরের গভীরে ঢুকে নির্ভুল নিশানায় মিসাইল ছুড়তে সক্ষম।

পাইলটের ঝুঁকি ছাড়াই জয় নিশ্চিত প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (Defense Acquisition Board) থেকে এই ড্রোনের ৬৭টি ইউনিট কেনার সবুজ সংকেত মেলায় বড় জয় দেখছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এই ড্রোনের ফলে বিপজ্জনক অভিযানে পাইলটদের প্রাণের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। এটি দুর্গম এলাকা বা শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স থাকা অঞ্চলেও ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে।

আত্মনির্ভর ভারতের ‘গেম-চেঞ্জার’ বিদেশে ড্রোন বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ‘ঘাতক’ প্রকল্প এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ডিআরডিও জানিয়েছে, এই ড্রোনের ক্ষমতা কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমানের চেয়ে কম নয়। নজরদারি চালানো থেকে শুরু করে আক্রমণাত্মক অপারেশন— ঘাতক হবে ‘অল-রাউন্ডার’।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে এই ৬৭টি ড্রোন কেনা বিমান বাহিনীর জন্য এক বিরাট বড় ‘ভোকাল টনিক’। চিন ও পাকিস্তানের সীমান্তে ভারতের এই নতুন ‘ঘাতক’ বাহিনী মোতায়েন হলে ভারতের আকাশসীমা যে আরও নিশ্ছিদ্র হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।