ওসির বাড়বাড়ন্ত বরদাস্ত নয়! কালীঘাটের সেই বিতর্কিত পুলিশকর্তাকে নিয়ে ভয়ংকর হুঁশিয়ারি মমতার

ভোট গণনার ঠিক প্রাক্কালে পুলিশি অতিসক্রিয়তা এবং বিতর্কিত আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থানার সদ্য সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসের নাম না করে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত পুলিশ অফিসার নির্বাচনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, সরকার গঠনের পর তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

কী কারণে এই ক্ষোভ? ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কালীঘাট থানার ওসির দায়িত্ব পান গৌতম দাস। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পরই তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন। তৃণমূলের দাবি, এই ছবি অত্যন্ত ‘আপত্তিকর’ এবং ভোটারদের মনে ভয় দেখানোর শামিল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান।

‘ওসি প্রচুর বেড়েছিল’— মমতার তোপ কালীঘাটের ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কালীঘাটের ওসি প্রচুর বেড়েছিল। মহিলারা তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আজ সে সাসপেন্ড হয়েছে।” শুধু তাই নয়, নেত্রীর সাফ বার্তা— “এরকম যারা যারা করেছে, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে এই সময়কালে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আমাদের সরকার আসার পর তা দেখে নেব।”

কমিশনের কড়া পদক্ষেপ তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল রিপোর্ট তলব করেন। লালবাজারের পক্ষ থেকে দ্রুত জানানো হয় যে, গৌতম দাসকে কালীঘাট থানার ওসির পদ থেকে সরিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দকেও এই গোটা বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কে এই গৌতম দাস? ২০০৮ ব্যাচের এই অফিসার আগে পোস্তা, আলিপুর এবং আনন্দপুর থানায় কাজ করেছেন। লালবাজারের রিজার্ভ ফোর্সে থাকাকালীন রাজভবনেও ডিউটি করেছেন তিনি। সাব-ইন্সপেক্টর থেকে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হওয়ার পর তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চে ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে কালীঘাটের ওসির দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বিতর্ক তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিল।

ভোটের ফল ঘোষণার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘অ্যাকশন মোড’ রাজ্যের পুলিশ মহলে একপ্রকার ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। সোমবারের ফলের পর এই কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে লালবাজারের অলিন্দে।