ভোটের সকালেই ‘নিখোঁজ’ উত্তরপ্রদেশের সেই সিংহম! ডায়মন্ড হারবারে কি তবে নিরাপত্তায় বড়সড় গলদ?

গত ২৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে যাঁর উপস্থিতি দেখে বিরোধীদের মনে সাহস আর শাসকদলের অন্দরে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, সেই ‘রিয়েল লাইফ সিংহম’ অজয় পাল শর্মা আজ কোথায়? শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলাকালীন এই একটি প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের অলিগলিতে। বুথ পরিদর্শন থেকে শুরু করে জওয়ানদের কড়া নির্দেশ— আগের দফায় যাঁর সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো, আজ সেই আইপিএস কর্তার ‘অনুপস্থিতি’ ঘিরেই ঘনাচ্ছে রহস্য।

উপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি: রহস্যময় উধাও! উত্তরপ্রদেশের ক্যাডার এই দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে এবার বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলায় পাঠিয়েছিল কমিশন। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গতবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ পুনর্নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে দুপুর গড়িয়ে গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি কোথাও। তিনি কি জেলায় আছেন নাকি কমিশন তাঁকে অন্য কোথাও পাঠিয়েছে— সেই বিষয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে মেলেনি কোনও স্পষ্ট জবাব।

‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’র সেই পুরনো লড়াই ভোটের আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এই আইপিএস কর্তাকে লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, “ওঁরা যদি সিংহম হয়, তবে আমরাও এক একজন পুষ্পা— ঝুঁকেগা নেহি।” আজ অজয় পালের অনুপস্থিতি দেখে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি কোনো বিশেষ চাপে পিছিয়ে গেল কমিশন? না কি পর্দার আড়ালে অন্য কোনও কৌশল কাজ করছে?

বাহিনীর দাপট কি তবে কমল? স্থানীয়দের দাবি, গত বুধবার ডায়মন্ড হারবারের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সামনে অস্থায়ী ক্যাম্পে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে বিশাল সমাবেশ দেখা গিয়েছিল, আজ তা অনেকটাই ম্লান। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জওয়ানদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় কম বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার এই ‘শিথিলতা’ কি পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

ভোটের হার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের ১৫টি বুথে ভোট পড়ছে দেদার। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৩৬.৯৯ শতাংশ

  • মগরাহাট পশ্চিম: ৩৮.২%

  • ডায়মন্ড হারবার: ৩৫.৯২%

বিকেল ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে দিনভর আলোচনায় সেই একজনই— আইপিএস অজয় পাল শর্মা। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবারের পুনর্নির্বাচন কতটা নিষ্কণ্টক হয়, না কি শেষ মুহূর্তে কোনও বড়সড় অশান্তি দানা বাঁধে, এখন সেটাই দেখার। ৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফলের আগে এই পুনর্নির্বাচন যে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা নজর রাখছি প্রতিটি বুথের প্রতি মুহূর্তের আপডেটে।