রেশন কার্ড নিয়ে তোলপাড়! ৬ কোটি কার্ড বাতিলের পথে কেন্দ্র, তালিকায় আপনার নাম নেই তো?

দেশের রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বড়সড় অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে প্রায় ৬ কোটি ‘সন্দেহজনক’ রেশন কার্ড চিহ্নিত করে সেগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে কারচুপি ধরা পড়লে সেই কার্ডগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তবে এই তালিকায় উঠে আসা পরিসংখ্যান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দেখা যাচ্ছে, রেশন কার্ডে অনিয়মের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বিজেপি শাসিত বা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের রাজ্যগুলো অনেকটাই এগিয়ে।
কোন রাজ্যে কত ‘সন্দেহজনক’ কার্ড?
কেন্দ্রীয় তদন্তের তালিকায় যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তা রীতিমতো চমকপ্রদ। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে ১৭ লক্ষ ২৯ হাজার সন্দেহজনক কার্ড চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এক নজরে দেখে নিন কোন রাজ্যের কী অবস্থা:
মহারাষ্ট্র: এই রাজ্যে সবথেকে বেশি, প্রায় ৯৯ লক্ষ কার্ডে অসঙ্গতি মিলেছে।
রাজস্থান: এখানে প্রায় ৭৫ লক্ষ কার্ড কেন্দ্রের স্ক্যানারে রয়েছে।
গুজরাত: পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও এখানে ৫৫ লক্ষ কার্ড সন্দেহজনক।
উত্তরপ্রদেশ: দেশের বৃহত্তম এই রাজ্যে ৫৪ লক্ষ কার্ড চিহ্নিত হয়েছে।
অন্যান্য: এনডিএ শাসিত অন্ধ্রপ্রদেশে ৩৮ লক্ষ, অসমে ৩৬ লক্ষ এবং হরিয়ানার মতো ছোট রাজ্যেও ৩২ লক্ষ কার্ডে গোলমাল ধরা পড়েছে।
বাংলার রেশন ব্যবস্থায় কি স্বচ্ছতা বেশি?
রাজ্য খাদ্য দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের রেশন বণ্টন ব্যবস্থা অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় বাংলায় প্রায় ৬ কোটি ২ লক্ষ রেশন গ্রাহক আছেন। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহক থাকা সত্ত্বেও অনিয়মের হার অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই কম। খাদ্য দপ্তরের দাবি, ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়ার কারণেই ভুয়ো কার্ড বা কার্ডে কারচুপি করার সুযোগ কমে গিয়েছে।
আগামী পদক্ষেপ কী?
ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে রেশন কার্ড যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কার্ড পুনরায় বৈধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে রেশন দোকানে খাদ্যশস্য নিতে গেলে বায়োমেট্রিক বা অনলাইন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়ায় জালিয়াতি রুখতে সুবিধা হচ্ছে।
খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেটার পরই এই ভেরিফিকেশনের কাজ আরও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হবে। প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে এবং ভুয়ো কার্ডের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই এই কড়া অবস্থান নিতে চলেছে প্রশাসন। তবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বিপুল সংখ্যক কার্ডে অনিয়ম ধরা পড়ায় বিরোধীরা কেন্দ্রের দিকেই পাল্টা আঙুল তুলতে শুরু করেছে।