ভোট গণনার আগেই কি হার মানল তৃণমূল? মমতার স্ট্রংরুম সফর নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগেই ইভিএম এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বৃষ্টির মধ্যে গভীর রাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ট্রংরুম পরিদর্শন, অন্যদিকে ইভিএম বিকৃতির আশঙ্কায় তৃণমূল নেতাদের অবস্থান বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে পারদ চড়ছে বাংলার ভোট ময়দানে।
মধ্যরাতে বৃষ্টির মধ্যে স্ট্রংরুমে মমতা
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ভবানীপুর এলাকার একটি ইভিএম স্ট্রংরুমে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই পদক্ষেপ।
ধরনায় তৃণমূল নেতৃত্ব: কারচুপির বড় অভিযোগ
শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও। স্ট্রংরুমের সামনে ধরনায় বসেন কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। তাঁদের অভিযোগ, বেশ কিছু স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকে না জানিয়েই ব্যালট বক্স সরানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তৃণমূল নেতৃত্বের সাফ কথা, “গণতন্ত্র রক্ষা করতেই আমাদের এই অবস্থান। ইভিএমের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখা যাবে না।”
‘হেরে যাওয়ার মানসিকতা’, তোপ দিলীপের
তৃণমূলের এই ‘স্ট্রংরুম রাজনীতি’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি বলেন, “যতদিন তৃণমূলের দাপট ছিল, ততদিন ওরা যা খুশি তাই করত। আমরা অভিযোগ জানালে পাত্তা পেতাম না। এখন সময় বদলে গিয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ট্রংরুম সফরকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করে দিলীপ ঘোষ আরও যোগ করেন, “তৃণমূল যে হারছে, এটা ওরা এখন নিশ্চিতভাবে জেনে গিয়েছে। আর সেই হার নিশ্চিত বুঝেই এখন ইভিএম বা স্ট্রংরুম নিয়ে অবান্তর অভিযোগ করছে। এটা আসলে হেরে যাওয়ার আগের মানসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আগামী ৪ঠা মে ভোট গণনা। তার আগে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী এই সংঘাত গণনার দিন রাজ্যজুড়ে বড় অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।