আমেরিকার দিন শেষ! পারস্য উপসাগর নিয়ে বড় ‘খেলা’ শুরু ইরানের, চরম বিপাকে বাইডেন প্রশাসন?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢাললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তির উপস্থিতি নিয়ে ফের একবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, এই জলসীমা শুধুমাত্র এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য, সেখানে কোনো ‘বিদেশি শক্তির’ ঠাঁই হবে না।

পারস্য উপসাগর থেকে সরতে হবে আমেরিকাকে?

দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ইরান। সম্প্রতি এক ভাষণে খামেনি বলেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধুমাত্র উপকূলীয় দেশগুলোর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই এলাকায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কেবল অস্থিরতাই বাড়াবে। ইরানের নেতার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।

ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন সমীকরণ

খামেনির এই বার্তাকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইরানের দাবি, তারা নিজেদের জলসীমা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন বরাবরই এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা’ হিসেবে দাবি করে এসেছে। খামেনির এই সরাসরি হুমকি কি নতুন কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ইরানি নেতার এই মন্তব্যের পর এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনির এই অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শীতল যুদ্ধকে আরও উসকে দিতে পারে।