ভোট মিটতেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব! আজ কোন কোন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা?

ভোট মিটতেই রাজ্যজুড়ে বদলে গেল আবহাওয়ার মেজাজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু করে আগামী ৪ মে পর্যন্ত অর্থাৎ ভোটের ফলাফলের আগের দিন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে দুর্যোগ। কোথাও ভারী বৃষ্টি তো কোথাও কালবৈশাখীর দাপট— সব মিলিয়ে অস্বস্তিকর গরম থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও রয়েছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

কলকাতায় রেকর্ড তাপমাত্রা পতন
গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কলকাতায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে এক ধাক্কায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে গিয়েছে। রাতের দিকে পারদ গিয়ে ঠেকে ২০.৪ ডিগ্রিতে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম স্বস্তি বয়ে এনেছে। আজ সকালেও আকাশের মুখ ভার এবং কয়েক দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর সতর্কতা
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং দুই বর্ধমান জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের গতিবেগ: নদীয়া, হুগলি, বর্ধমান ও বীরভূমে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলোতে ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের মাত্রা বাড়বে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় প্রশাসনের তরফে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কতদিন চলবে এই দুর্যোগ?
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী রবিবার পর্যন্ত এই দফায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে আপাতত ৪ মে পর্যন্ত রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। তাপমাত্রার এই হেরফের সাধারণ মানুষের জন্য গরম থেকে আরামদায়ক হলেও, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সময় খোলা আকাশের নিচে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

সতর্কবার্তা: ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কাঁচা বাড়ি বা বিদ্যুতের লাইনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।