ইভিএম-এ কারচুপি করলেই কড়া শাস্তি! কোথায় কোথায় হবে পুনর্নির্বাচন? বোমা ফাটালেন সিইও মনোজ আগরওয়াল!

বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ইভিএম কারচুপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ইভিএম-এ টেপ লাগানো থেকে শুরু করে বুথে অশান্তি— প্রতিটি অভিযোগকে যে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট বুথ তো বটেই, এমনকি গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

টেপ-কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ: কোথায় হবে পুনর্নির্বাচন?

ভোট চলাকালীন বেশ কিছু বুথে ইভিএম-এর বোতামে সাদা বা কালো টেপ লাগিয়ে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে সিইও সাফ জানান:

  • যে সমস্ত বুথে ইভিএম-এ টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলেছে, সেখানে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) হবে।

  • যদি কোনো বিধানসভা কেন্দ্রের অধিকাংশ বুথেই এই ধরনের কারচুপি দেখা যায়, তবে প্রয়োজনে পুরো বিধানসভা জুড়েই ফের ভোট নেওয়ার কথা ভাববে কমিশন।

  • কারচুপির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।

“কমিশনের অফিসাররা নির্দিষ্ট রিপোর্ট দিয়েছেন। যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে রিপোল হবেই। ভবানীপুরের অশান্তি নিয়েও কমিশন কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে।” — মনোজ কুমার আগরওয়াল

“লাঠি কি শুধু দেখানোর জন্য?” কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশে সিইও

বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ভোটার বা জমায়েতের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বেশ সপাটে জবাব দেন মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে লাঠি আছে, তো ওটা কি তারা ব্যবহার করবে না? যদি না করে, তবে তো আপনারাই বলবেন বাহিনী কাজ করছে না! জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতেই বাহিনী লাঠি ব্যবহার করেছে।”

ইভিএম ও নজরদারি নিয়ে বড় আপডেট

ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে ওঠা আশঙ্কার মেঘও ওড়ালেন সিইও। তাঁর বক্তব্য:

  • ভোটের গোপনীয়তা: ইভিএম-এ এমন প্রযুক্তি রয়েছে যে কেউ জানতে পারবে না কে কাকে ভোট দিচ্ছে। ক্যামেরা লাগিয়ে নজরদারির যে দাবি উঠছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

  • অভিযোগ খতিয়ে দেখা: মগরাহাট পশ্চিম, ফলতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে কমিশন।

  • শান্তিপূর্ণ ভোট: দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া দ্বিতীয় দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই দাবি কমিশনের।

কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ইভিএম বিকল হওয়া বা লম্বা লাইনের সমস্যা মেটাতে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সদাতৎপর ছিল। সিইও-র এই কড়া বার্তার পর এখন দেখার, কোন কোন বুথে শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় কমিশন।