প্রাইভেট স্কুলের দাদাগিরি খতম! RTE-তে ভর্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, খুশির হাওয়া অভিভাবকদের মধ্যে

বেসরকারি স্কুলগুলোর একাধিপত্য রুখতে এক যুগান্তকারী রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ‘শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯’ (RTE Act) অনুযায়ী, রাজ্য সরকার কোনো পড়ুয়াকে কোনো নির্দিষ্ট প্রাইভেট স্কুলে ভর্তির নির্দেশ দিলে, সেই স্কুল আর তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পড়ুয়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়া আটকানো যাবে না।

ঘটনাটি ঠিক কী? উত্তরপ্রদেশের লখনউ পাবলিক স্কুল (এলডিকো) এক পড়ুয়াকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। শিক্ষা বিভাগ ওই পড়ুয়াকে স্কুলটিতে সিট বরাদ্দ করলেও স্কুলের দাবি ছিল, পড়ুয়াটির যোগ্যতা বা এলিজিবিলিটি নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। এই বিতর্কের জেরে বিষয়টি প্রথমে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে পৌঁছায়। হাইকোর্ট জানায়, রাজ্য সরকার একবার তালিকা চূড়ান্ত করে দিলে স্কুলের কাছে তা ফেরানোর কোনো অধিকার নেই। লখনউ পাবলিক স্কুল এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও, আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: শুনানির সময় শীর্ষ আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে:

  • তৎক্ষণাৎ ভর্তি: রাজ্য দ্বারা মনোনীত পড়ুয়াদের বেসরকারি স্কুলগুলোকে অবিলম্বে ভর্তি নিতে হবে।

  • সন্দেহ থাকলে করণীয়: যদি কোনো স্কুলের পড়ুয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে তারা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু সেই অজুহাতে ভর্তি প্রক্রিয়া ঝুলাতে বা বাতিল করতে পারবে না।

  • আইনের বাধ্যবাধকতা: ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সাধারণ মানুষের জন্য এর গুরুত্ব: এই রায়ের ফলে নিম্ন আয়ের পরিবার বা বঞ্চিত শ্রেণির মানুষদের জন্য বড় সুবিধা হলো। শিক্ষার অধিকার আইনের অধীনে বেসরকারি স্কুলের এন্ট্রি লেভেল ক্লাসগুলোতে ২৫ শতাংশ আসন এই ধরণের পড়ুয়াদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট স্কুলগুলো নানা অজুহাতে এই ভর্তি এড়িয়ে যেতে চাইত, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর এখন থেকে তারা আর তা পারবে না।

শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করতে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।