রেকর্ড হারে বন্ধ হচ্ছে SIP! আতঙ্কে টাকা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা? জেনে নিন আপনার আসল লাভ কোথায়!

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা শুরু হতেই হাত কাঁপছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। গত ১১ মাসের পরিসংখ্যান বলছে, নতুন এসআইপি (SIP) খোলার চেয়ে বন্ধ করার প্রবণতা হু হু করে বাড়ছে। গত মাসেই প্রায় ৫৩.৩৮ লক্ষ এসআইপি বন্ধ হয়েছে, যেখানে নতুন বিনিয়োগ শুরু হয়েছে তার চেয়েও কম। কিন্তু কেন এই গণ-প্রস্থান? আর আপনার জমানো টাকার ভবিষ্যৎই বা কী?

কেন ভয় পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা? শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক চড়াই-উতরাই অনেককে বিচলিত করে তুলেছে। গত এক বা দুই বছরে অনেক নামী মিউচুয়াল ফান্ডের ‘রিটার্ন’ বর্তমানে নেতিবাচক বা মাইনাসে চলছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞ রিতেশ সাবারওয়ালের মতে, “পোর্টফোলিও যখন লালে লাল দেখায়, তখন টাকা ঢালা বন্ধ করাটাকেই সাধারণ মানুষ সঠিক বলে মনে করেন।” তবে এই আবেগই হতে পারে আপনার দীর্ঘমেয়াদী আয়ের সবচেয়ে বড় বাধা।

বাজার পড়লে লাভ না ক্ষতি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার যখন নিম্নমুখী, তখনই আসলে এসআইপি-র আসল খেল শুরু হয়। একে বলা হয় ‘রুপি কস্ট এভারেজিং’

  • সহজ হিসেব: ধরুন আপনি মাসে ১০,০০০ টাকা দেন। বাজার চড়া থাকলে আপনি কম ‘ইউনিট’ পান। কিন্তু বাজার পড়লে ওই একই টাকায় আপনি অনেক বেশি ‘ইউনিট’ কিনতে পারেন।

  • পরবর্তীতে বাজার যখন ঘুরে দাঁড়ায়, আপনার কেনা এই বাড়তি ইউনিটগুলোই রিটার্নকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞের টিপস: বাজারের মন্দা দেখে এসআইপি বন্ধ করা মানে—মাঝ সমুদ্রে হাল ছেড়ে দেওয়া। যখন সস্তায় ইউনিট কেনার সুযোগ আসছে, তখনই বিনিয়োগকারীরা পালিয়ে যাচ্ছেন, যা আদতে দীর্ঘমেয়াদী বড় ক্ষতির কারণ।

বিকল্প রাস্তা কী? যদি মাসিক বিনিয়োগে ভয় লাগে, তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এই দুটি রাস্তা নিতে পারেন: ১. সাপ্তাহিক এসআইপি: মাসে একবার না দিয়ে প্রতি সপ্তাহে অল্প করে বিনিয়োগ করুন। এতে বাজারের প্রতিদিনের ওঠানামার সুবিধা পাওয়া যায়। ২. এসটিপি (STP): একবারে সব টাকা শেয়ার বাজারে না ঢেলে লিকুইড ফান্ডে রাখুন এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে ইকুইটিতে ট্রান্সফার করুন।

শেষ কথা: ইতিহাস সাক্ষী, শেয়ার বাজার সবসময় পড়ে থাকে না। একটি এসআইপি-র পূর্ণ সুফল পেতে অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। তাই হুজুগে পড়ে বা আতঙ্কে নিজের জমানো টাকা তুলে না নিয়ে, লক্ষ্য স্থির রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।