সেমিফাইনাল শেষ, কাল মেগা ফাইনাল! ১৪২টি আসনের সমীকরণ ওলটপালট করতে পারে কোন ফ্যাক্টর?

প্রচারের সুর কেটেছে সোমবারই। এখন শুধুই নিস্তব্ধতা আর ভোটের অপেক্ষা। আগামীকাল বুধবার, ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে নির্ধারিত হবে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য।

কোথায় কোথায় ভোট? দ্বিতীয় দফায় মূলত প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমান বিভাগের জেলাগুলিতে ভোট হবে। একনজরে দেখে নিন জেলাভিত্তিক আসন সংখ্যা:

  • উত্তর ২৪ পরগনা: ৩৩টি আসন।

  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩১টি আসন।

  • হুগলি: ১৮টি আসন।

  • নদিয়া: ১৭টি আসন।

  • পূর্ব বর্ধমান: ১৬টি আসন।

  • হাওড়া: ১৬টি আসন।

  • কলকাতা: ১১টি আসন।

হেভিওয়েট লড়াই ও নজরে যারা: এই দফার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ভবানীপুর কেন্দ্র। এখানে সরাসরি লড়াই হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। এছাড়াও লড়াইয়ে আছেন বামেদের শ্রীজীব বিশ্বাস। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন:

  • টালিগঞ্জ: অরূপ বিশ্বাস (TMC)।

  • দমদম উত্তর: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (TMC) বনাম দীপ্সিতা ধর (CPIM)।

  • বেহালা পূর্ব: রত্না চট্টোপাধ্যায় (TMC)।

  • বালিগঞ্জ: বাবুল সুপ্রিয় (TMC)।

  • রাসবিহারী: দেবাশিস কুমার (TMC) বনাম স্বপন দাশগুপ্ত (BJP)।

কার শক্তি কোথায়? ২০২১ সালের ফলের নিরিখে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১১১টি ছিল তৃণমূলের দখলে। তবে এবারের সমীকরণ কিছুটা আলাদা।

  • তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): নিজেদের গড় কলকাতা ও শহরতলিতে আধিপত্য ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ জোড়াফুলের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পই তাদের প্রধান হাতিয়ার।

  • বিজেপি (BJP): মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক এবং শহরতলির মধ্যবিত্ত ভোটারদের ওপর ভরসা করে আসন বাড়ানোর লক্ষ্যে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

  • বাম-কংগ্রেস জোট: মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত ও দীপ্সিতা ধরের মতো তরুণ মুখদের নামিয়ে এবার বামেরা হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।

নিরাপত্তার চাদরে বাংলা: প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ ভোটের রেকর্ড ধরে রাখতে দ্বিতীয় দফাতেও কয়েক’শ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। কলকাতা ও শহরতলির অলিগলিতে রাতভর চলবে এরিয়া ডমিনেশন। আগামীকাল সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ৩.২১ কোটি মানুষের আঙুলের ছাপেই ঠিক হবে আগামী ৫ বছর নবান্নের দখল কার হাতে থাকবে।