বড় খবর: বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী! মোদি সরকারের বড় চমক

দীর্ঘ জল্পনার অবসান। বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার বা রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর নাম চূড়ান্ত করল বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার একটি সরকারি বিবৃতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি এই নিয়োগে সিলমোহর দিয়েছে। এতদিন এই গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন প্রণয় বর্মা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং পরবর্তী পর্যায়ে নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই দীনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিজ্ঞতায় ভরসা দিল্লির:
বিহারের প্রাক্তন রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের নাম আলোচনায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকেই বেছে নিয়েছে মোদি সরকার। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত যেভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে একজন ঝানু রাজনীতিকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল সাউথ ব্লক।

বাংলার সঙ্গে নাড়ির টান:
দীনেশ ত্রিবেদী মূলত গুজরাটি পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর রাজনৈতিক উত্থান পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং রাজ্যসভার সাংসদ— দীর্ঘ সময় তিনি বাংলার রাজনীতির অলিন্দে বিচরণ করেছেন।

ভাষাগত দক্ষতা: তিনি ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন, যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাড়তি সুবিধা দেবে।

সাংস্কৃতিক যোগ: ওপার বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল, যা কূটনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

রাজনৈতিক সফরনামা:
কংগ্রেস দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও পরে জনতা দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ইউপিএ আমলের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এবার সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকেই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার গুরুদায়িত্ব দিল কেন্দ্র।

কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?
মসৃণ কূটনীতি: আমলা বা প্রফেশনাল কূটনীতিকের বদলে একজন রাজনীতিককে রাষ্ট্রদূত করা মানেই হলো— সরাসরি রাজনৈতিক স্তরে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা।

আস্থা অর্জন: বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যিনি ভাষা ও সংস্কৃতির সেতু হয়ে দুই দেশের আস্থা অর্জন করতে পারেন।