তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ? ট্রাম্পের কড়া বার্তায় ভেস্তে যাচ্ছে ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা!

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা কি আরও জোরালো হচ্ছে? ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির লক্ষন নেই। সোমবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে তেহরানের প্রস্তাবে মোটেও সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প।

ইরানের প্রস্তাব ও আমেরিকার সংশয়:
ইরানের দাবি, তারা এখনই হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে যুদ্ধের অবসান চায়। তবে কৌশলে তারা তাদের ‘পরমাণু কর্মসূচি’ নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এই প্রস্তাবকে কিছুটা ‘ইতিবাচক’ বললেও, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই-র যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। রুবিওর তোপ, “মোজতাবার কি আদেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে, নাকি আড়ালে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে?”

রাশিয়ার দ্বারস্থ ইরান ও নয়া আইন:
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি মস্কোয় গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকার ‘অতিরিক্ত আবদার’-এর জন্যই শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, ইরান সরকার এক নয়া আইন এনেছে যেখানে হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে। এমনকি শত্রু দেশের জাহাজ যাতায়াত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনও স্থানীয় মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লেবাননে অশান্তি ও ইজরায়েলের কড়া অবস্থান:
শান্তি আলোচনার আবহেই লেবাননে ইরানের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহর হামলায় ৪ জন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে ‘পাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সাফ জানিয়েছেন, “কাশেম আগুন নিয়ে খেলছেন।” প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলা রুখতে সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে ইজরায়েল।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।