বিহারে বিনিয়োগের জোয়ার! ২৫,০০০ কোটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষণা, লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ?

বিহারের মসনদে বসার পর থেকেই রাজ্যের ভোল বদলে দিতে মরিয়া বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকার। এবার শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে এক বিশাল পদক্ষেপের পথে হাঁটল সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সরকার। দক্ষিণ বিহারের বাঁকা জেলায় প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র (Nuclear Power Plant) স্থাপনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি (NTPC) এবং বিহার সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিহারের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হতে পারে।

বাঁকায় পরমাণু বিদ্যুতের ‘পাওয়ার হাউজ’: কী কী থাকছে?

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সব সুবিধা:

  • উৎপাদন ক্ষমতা: এখানে ৭০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট তৈরি করা হবে, যা থেকে মোট ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

  • বিশাল এলাকা: প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০০০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঁকা জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলের প্রাপ্যতা বিচার করেই এই স্থান নির্বাচন।

  • পরিবেশবান্ধব শক্তি: কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বদলে পরমাণু শক্তির ওপর জোর দিয়ে বিহারকে পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন এনার্জি’র পথে এগিয়ে নিতে চাইছে সরকার।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোয়ার

মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ইতিমধ্যেই বিধানসভায় জানিয়েছেন যে, আগামী এক বছরে বিহারে ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ২৫ হাজার কোটির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সেই লক্ষ্যমাত্রারই একটি বড় অংশ। ১. কর্মসংস্থান: এই প্রকল্প নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে হাজার হাজার স্থানীয় যুবক কাজের সুযোগ পাবেন। ২. শিল্পায়ন: পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা মিললে বিহারে নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে উঠবে, যা রাজ্যের জিডিপি বাড়াতে সাহায্য করবে। ৩. বিদ্যুৎ বিলে স্বস্তি: নিজের রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে বাইরের রাজ্য থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার প্রয়োজন পড়বে না, যার সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।

সরকারের ‘স্পিড’ পলিটিক্স

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে চাইছে না বিজেপি সরকার। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ যখন ভোটের উত্তাপে ফুটছে, তখন পড়শি রাজ্য বিহারে শিল্পের এই মেগা প্রজেক্ট ঘোষণা করে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে— ‘উন্নয়নই শেষ কথা’।

বিশেষজ্ঞের রায়: এনটিপিসি-র এই উদ্যোগ সফল হলে বিহার কেবল ভারতের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী রাজ্যই হয়ে উঠবে না, বরং উত্তর ভারতের শিল্প মানচিত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।