যাদবপুরে বাম ঝড়ে ধুলিসাৎ বিরোধীরা! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে লাল আবিরে রঙিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর!

একুশের নির্বাচনের পর ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটেও যখন লড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছিল, তখনই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন অক্সিজেন দিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (JU)। সোমবার প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ফলাফলে কার্যত বিরোধীদের ধুয়ে মুছে সাফ করে জয় ছিনিয়ে নিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এই জয় বাম শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে।
ফলাফলের বড় হাইলাইটস
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং— তিনটি বিভাগেই বামপন্থী এবং বাম-ঘেঁষা নির্দল সংগঠনগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গিয়েছে:
-
এসএফআই (SFI) ও ফ্রন্ট: কলা বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে এসএফআই। বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তাঁদের প্রার্থীরা।
-
ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞান: ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিএসএফ (DSF) এবং বিজ্ঞানে ডব্লিউটিআই (WTI) তাদের জয়যাত্রা বজায় রেখেছে।
-
বিজেপি ও তৃণমূলের অবস্থা: অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এবিভিপি বা টিএমসিপি সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের আগে কেন এই জয় গুরুত্বপূর্ণ?
যাদবপুর সবসময়ই বাংলার রাজনীতির ব্যারোমিটার হিসেবে পরিচিত। আগামী ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে বুদ্ধিজীবী এবং তরুণ প্রজন্মের এই রায় বামেদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ১. তরুণ ভোটারদের পালস: যাদবপুরের ফলাফল প্রমাণ করছে যে, শিক্ষিত ও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখনও বামপন্থাকে বিকল্প হিসেবে ভাবছে। ২. বামেদের পুনরুত্থান: দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর, ছাত্র রাজনীতির এই সাফল্য মূল নির্বাচনী লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেস জোটের নেতা-কর্মীদের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শহুরে রাজনীতিতে প্রভাব: যাদবপুর ও সংলগ্ন দক্ষিণ কলকাতার আসনগুলোতে এই ফলের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উচ্ছ্বাসে ভাসছে ছাত্র সংগঠনগুলো
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই লাল আবির আর ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে যাদবপুর ক্যাম্পাস। জয়ী ছাত্র প্রতিনিধিদের বক্তব্য, “এই জয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের গর্জন। আমরা প্রমাণ করেছি যে মানুষের জন্য লড়াই করলে ফল পাওয়া যায়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে: বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাদবপুরের এই ফল শাসকদল এবং প্রধান বিরোধী দল— উভয় পক্ষকেই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে— তবে কি ২০২৬-এ বড় কোনো চমক দিতে চলেছে বামেরা?
ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে বড় পলিটিক্যাল ব্রেকিং নিউজ। যাদবপুরের এই ‘লাল ঝড়’ কি ২৯ তারিখের ইভিএম-এ প্রতিফলিত হবে? উত্তর দেবে সময়।