পুড়ছে বাংলা, তবে কালবৈশাখীর কাউন্টডাউন শুরু! ১২ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস

টানা তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা তপ্ত লু-এর বদলে এবার বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের দাপট বাড়বে রাজ্যে। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।
কেন এই আবহাওয়া বদল?
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পূর্ব বিহারের ওপর একটি উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প এবং উপ-ক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিমের মিলনে পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
একনজরে জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস:
কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি: সপ্তাহের শুরুতে গরম ও অস্বস্তি থাকলেও ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত গরম থাকলেও পরবর্তী ৫ দিনে এখানেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হবে।
দুই ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুর: আজ থেকেই এই জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে সপ্তাহজুড়েই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা:
২৬ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে (গতিবেগ সর্বোচ্চ ৬০ কিমি/ঘণ্টা)। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের এই ক’দিন গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কমবে, ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি পেতে চলেছে আপামর রাজ্যবাসী।