‘ওঁর পরাজয় নিশ্চিত, নিজেই বুঝতে পেরেছেন”-মমতা মঞ্চ ছাড়তেই কটাক্ষ শুভেন্দুর

নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে তপ্ত কলকাতার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। আগামী বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে প্রচারের ময়দানে সম্মুখসমরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদায়ী বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিকেলে চক্রবেড়িয়া রোডে দুই হেভিওয়েটের প্রচার ঘিরে যা ঘটল, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

মাঝপথে কেন সভা ছাড়লেন মমতা?

শনিবার বিকেলে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডে তৃণমূলনেত্রীর সভার মাত্র ১০০ মিটার দূরেই বিজেপির পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় বিঘ্ন ঘটাতেই অত্যন্ত উচ্চস্বরে মাইক বাজাচ্ছিল বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পাশের সভার তীব্র শব্দে বিরক্ত হয়ে মাঝপথেই বক্তৃতা থামিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ ছাড়েন তিনি।

শুভেন্দুর পাল্টা তোপ: “হারের ভয় পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী”

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্থানকে আসন্ন পরাজয়ের লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন:

  • “মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যাচ্ছে তিনি আসন্ন পরাজয় নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন।”

  • শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলই বরং উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে বিজেপির সভা ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে।

  • মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি তৃণমূলের একদল কর্মীকে ‘ইতরের দল’ এবং ‘নর্দমার কীট’ বলেও কটাক্ষ করেন।

কালীঘাটে উত্তেজনা ও কমিশনের দ্বারস্থ শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ভবানীপুর থানা এলাকায় তাঁর প্রচারের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল বারবার বাধা দিচ্ছে। এই মর্মে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ভবানীপুর ও কালীঘাট থানার বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে অমিত শাহের রোড শো-কেও কেন্দ্র করে কালীঘাট চত্বরে দুই দলের মধ্যে ব্যাপক স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

নজরে ২৯ এপ্রিলের মহাযুদ্ধ

আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রের মানুষ কার হাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনই স্পষ্ট হবে ভবানীপুরের এই ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এ শেষ হাসি কে হাসেন—দিদি নাকি শুভেন্দু।